ঢাকা | শুক্রবার
৩০শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৬ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ডোপ টেস্ট কেলেঙ্কারিতে ভারতীয় ক্রিকেটার

ভারতীয় ক্রিকেটে নতুন করে চাঞ্চল্যের জন্ম দিয়েছে ডোপিং কেলেঙ্কারি। এবার নিষিদ্ধ উপাদান ব্যবহারের অভিযোগে ডোপ পরীক্ষায় ধরা পড়েছেন উত্তরাখণ্ডের বাঁহাতি পেসার রাজন কুমার। পরীক্ষায় তার শরীরে একাধিক নিষিদ্ধ পদার্থ শনাক্ত হওয়ার পর জাতীয় অ্যান্টি-ডোপিং সংস্থা (নাডা) তাকে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করেছে।

ভারতের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, ২৯ বছর বয়সী এই পেসারের ডোপ নমুনায় অ্যানাবলিক স্টেরয়েড ড্রোস্টানোলোন ও মেটেনোলোনের পাশাপাশি ক্লোমিফিনের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। ক্লোমিফিন সাধারণত নারীদের বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসায় ব্যবহৃত হলেও পুরুষদের ক্ষেত্রে এটি টেস্টোস্টেরনের মাত্রা পুনরুদ্ধারে সহায়ক হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে যা ক্রীড়াক্ষেত্রে স্পষ্টভাবে নিষিদ্ধ।

রাজন কুমার সর্বশেষ মাঠে নেমেছিলেন ২০২৪ সালের সৈয়দ মুস্তাক আলী ট্রফিতে। গত ৮ ডিসেম্বর আহমেদাবাদে অনুষ্ঠিত গ্রুপ ‘ডি’-এর ম্যাচে দিল্লির বিপক্ষে উত্তরাখণ্ডের জার্সিতে খেলেন তিনি। ডোপ পরীক্ষায় পজিটিভ হওয়ার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর এখন পর্যন্ত এই পেসার নিজে কিংবা তার পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

অন্য অনেক খেলাধুলার তুলনায় ক্রিকেটে ডোপিংয়ের ঘটনা তুলনামূলকভাবে কম হলেও, ভারতের ক্রিকেটে এর আগেও এমন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সর্বশেষ বড় আলোড়ন হয়েছিল ২০১৯ সালে, যখন ভারতীয় ওপেনার পৃথ্বী শ ডোপ পরীক্ষায় পজিটিভ হন। নিষিদ্ধ উপাদান টারবিউটালিন গ্রহণের দায় স্বীকার করে তিনি সেটিকে ‘অনিচ্ছাকৃত ভুল’ বলে দাবি করেছিলেন। সে ঘটনায় ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) তাকে আট মাসের জন্য নিষিদ্ধ করেছিল।

এরপর ২০২০ সালে মধ্যপ্রদেশের অলরাউন্ডার অংশুলা রাও-ও ডোপিং কাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন। এসব ঘটনা প্রমাণ করে, ক্রিকেটে ডোপিং বিরল হলেও একেবারে অদৃশ্য নয়।

বৃহত্তর ক্রীড়াঙ্গনের চিত্র আরও উদ্বেগজনক। বিশ্ব অ্যান্টি-ডোপিং সংস্থা (ওয়াডা)-এর বার্ষিক প্রতিবেদনে টানা তিন বছর ধরে ডোপিং অপরাধীর সংখ্যায় শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে ভারত। এই পরিসংখ্যান দেশের ক্রীড়া ব্যবস্থাপনা ও নৈতিকতার ওপর বড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি করেছে।

বিশেষ করে এমন এক সময়ে এই ঘটনা সামনে এলো, যখন ভারত ২০৩০ সালের কমনওয়েলথ গেমস আয়োজন করতে যাচ্ছে আহমেদাবাদে এবং একই শহরে ২০৩৬ অলিম্পিক আয়োজনের জন্য জোরালো বিড দিচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে ডোপিংয়ের মতো কেলেঙ্কারি ভারতের ক্রীড়াঙ্গনের ভাবমূর্তির জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন