২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলো ভারত থেকে অন্য দেশে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে গুরুত্ব সহকারে আলোচনা শুরু করেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) আনুষ্ঠানিক অনুরোধের পর টুর্নামেন্টের সূচি ও ভেন্যু নিয়ে নতুন করে হিসাব-নিকাশ চলছে, যার ফলে শিগগিরই বড় সিদ্ধান্ত আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
ক্রিকেটবিষয়ক ওয়েবসাইট ক্রিকবাজের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বিসিবির প্রস্তাবকে ইতিবাচকভাবেই দেখছে আইসিসি। আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
একই সুরে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে, বাংলাদেশকে ভারত থেকে সরিয়ে নিতে হলে কীভাবে নতুন সূচি সাজানো যায়, সে বিষয়ে ইতোমধ্যেই বিকল্প পরিকল্পনা তৈরি শুরু করেছে আইসিসি।
বর্তমান সূচি অনুযায়ী, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ইতালি ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশের তিনটি গ্রুপ ম্যাচ হওয়ার কথা কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে। এছাড়া নেপালের বিপক্ষে আরেকটি ম্যাচ নির্ধারিত রয়েছে মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে। ভারত ও শ্রীলঙ্কার যৌথ আয়োজনে টুর্নামেন্টটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ২০২৬ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৮ মার্চ পর্যন্ত।
বিশ্বকাপ শুরুর একেবারে কাছাকাছি সময়ে ভেন্যু পরিবর্তন করা আইসিসির জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ। তবে শ্রীলঙ্কা যেহেতু সহ-আয়োজক দেশ, তাই বাংলাদেশের ম্যাচগুলো স্থানান্তরের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বাস্তবসম্মত বিকল্প হিসেবেই দেশটির নাম উঠে আসছে।
সম্প্রতি ধর্মীয় উগ্রবাদীদের প্রতিবাদের মুখে মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনায় ভারতে খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে বিসিবির। এসব বিষয় বিবেচনা করেই এক জরুরি বোর্ড সভায় সিদ্ধান্ত হয়, বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ দল ভারতে খেলবে না।
এরপর বিসিবি আনুষ্ঠানিকভাবে আইসিসির কাছে আবেদন জানায়, যেন বাংলাদেশের সব বিশ্বকাপ ম্যাচ ভারতের বাইরে আয়োজন করা হয়। বিষয়টি আইসিসির জন্য স্পর্শকাতর হয়ে উঠেছে, কারণ একদিকে খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চাপ, অন্যদিকে ভবিষ্যতে রাজনৈতিক বা দ্বিপাক্ষিক কারণে ভেন্যু পরিবর্তনের নজির গড়ে ওঠার আশঙ্কা।
ভেন্যু বদলাতে হলে আইসিসিকে বেশ কিছু বড় ধরনের পরিচালনাগত পরিবর্তনের মুখোমুখি হতে হবে। নতুন সূচি প্রণয়ন, ভারতের টিকিট বিক্রির পরিকল্পনা সংশোধন, অংশগ্রহণকারী দলগুলোর ভ্রমণ ও আবাসন ব্যবস্থায় পরিবর্তন—সবকিছুই নতুন করে সাজাতে হবে, যাতে প্রতিযোগিতার ভারসাম্য বজায় থাকে।
এদিকে টুর্নামেন্ট শুরুর প্রথম সপ্তাহের বাণিজ্যিক কার্যক্রম ও সম্প্রচার পরিকল্পনা ইতোমধ্যেই চূড়ান্ত হয়ে যাওয়ায় সিদ্ধান্ত নিতে বাড়তি চাপ অনুভব করছে আইসিসি।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশের আগেই পাকিস্তান ভারতে খেলতে অস্বীকৃতি জানায়। ফলে পাকিস্তানের সব ম্যাচ—এমনকি তারা সেমিফাইনাল বা ফাইনালে উঠলেও—শ্রীলঙ্কাতেই আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এর আগে ২০২৩ সালে ভারতে অনুষ্ঠিত ওয়ানডে বিশ্বকাপেও বাংলাদেশের অনেক সাংবাদিক ভিসা জটিলতার মুখে পড়েছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। সব মিলিয়ে আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে ঘিরে ভারতের ভেন্যু নিয়ে নতুন করে জটিলতা তৈরি হয়েছে, যার কেন্দ্রবিন্দুতে এখন বাংলাদেশ দল।




