ঢাকা | শুক্রবার
৩০শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৬ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নিত্যপণ্যের দাম আকাশছোঁয়া, মূল্যস্ফীতি ছুঁল ৮.৪৯%

দেশে খাদ্যপণ্য ও দৈনন্দিন জীবনের ব্যয় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে মূল্যস্ফীতি, যা নিম্ন ও মধ্যবিত্তদের ওপর সবচেয়ে বেশি চাপ তৈরি করছে। কারণ ব্যয় যেমন বেড়েছে, আয় ততটা বৃদ্ধি পায়নি। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) প্রকাশিত ডিসেম্বরের তথ্য অনুযায়ী, ওই মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ৮.৪৯ শতাংশে পৌঁছেছে, যা নভেম্বরে ছিল ৮.২৯ শতাংশ।

ডিসেম্বরে খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি ৭.৭১ শতাংশ, আর খাদ্যবহির্ভূত খাতের মূল্যস্ফীতি ৯.১৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। টানা তিন মাস ধরে খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ার প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। অর্থাৎ, গত বছরের ডিসেম্বরে ১০০ টাকায় যা পাওয়া যেত, এবার সেটির জন্য খরচ করতে হয়েছে ১০৮.৪৯ টাকা। মূল্যস্ফীতির হার গত এক বছরে কিছুটা ওঠানামা করলেও মূলত ৮ শতাংশের আশপাশে রয়েছে।

গত তিন বছর ধরে দেশের অর্থনীতিতে উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপ বিরাজ করছে। ২০২৫ সালে গড় মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৮.৭৭ শতাংশ। গত বছরের জুলাইয়ে আন্দোলনের প্রভাবে এটি রেকর্ড ১১.৬৬ শতাংশে পৌঁছেছিল। পরে অক্টোবর ২০২৫-এ তা কমে ৮.১৭ শতাংশে নেমেছিল, যা ৩৯ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। তবে এরপর টানা দুই মাস ধরে আবারও বৃদ্ধি পাচ্ছে। খাদ্যপণ্যের পাশাপাশি অন্যান্য খাতেও দাম বাড়ার ফলে সীমিত আয়ের মানুষদের ওপর আর্থিক চাপ আরও বেড়েছে।

সরকার ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে মূল্যস্ফীতি ৬.৫ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার লক্ষ্য রেখেছে। এ লক্ষ্য অর্জনে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার তুলনামূলকভাবে উচ্চ রাখলেও বছরের মাঝামাঝি এসে লক্ষ্য ও বাস্তবতার মধ্যে ব্যবধান স্পষ্ট হয়ে পড়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন