আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের শেয়ারবাজার সংস্কারকে রাজনৈতিক অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি তুলেছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। তাদের আহ্বান, সব রাজনৈতিক দল যেন নির্বাচনী ইশতেহারে পুঁজিবাজার সংস্কারের সুস্পষ্ট ও সময়ভিত্তিক অঙ্গীকার যুক্ত করে। এই দাবিতে সোমবার মতিঝিলে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ভবনের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে বাংলাদেশ ক্যাপিটাল মার্কেট ইনভেস্টরস অ্যাসোসিয়েশন (বিসিআইএ)। কর্মসূচি শেষে সংগঠনটির পক্ষ থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের কাছে একটি স্মারকলিপি হস্তান্তর করা হয়।
বিনিয়োগকারীরা অভিযোগ করেন, ২০১০ সালের ৬ ডিসেম্বর তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে শেয়ারবাজার কার্যত ‘আইসিইউ’-তে চলে যায়। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তন হলেও এবং অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরও বাজারে কোনো টেকসই উন্নতির চিত্র দেখা যায়নি। তাদের মতে, সংস্কারের নামে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) যে সিদ্ধান্তগুলো নিচ্ছে, সেগুলো সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য ‘অর্থনৈতিক গণহত্যা’র মতো পরিস্থিতি তৈরি করেছে।
স্মারকলিপিতে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১১ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ছিল ৬ হাজার ১৫ পয়েন্ট। কিন্তু ২০২৫ সালের ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে সূচকটি এক হাজার ১৫০ পয়েন্টের বেশি কমে ৪ হাজার ৮৫০ পয়েন্টে নেমে এসেছে। একই সঙ্গে দৈনিক গড় লেনদেন ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা থেকে কমে বর্তমানে প্রায় ৩৫০ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। বাজারের মূল্য-আয় অনুপাত (পিই রেশিও) ৯-এর নিচে নেমে আসাকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে অস্বাভাবিক ও উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেছেন বিনিয়োগকারীরা।
বিসিআইএ নেতারা বলেন, স্থানীয় ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধার না করে বাজারে নতুন তহবিল আনার উদ্যোগ ফলপ্রসূ হবে না। তাদের অভিযোগ, গত ১৭ মাসে বিএসইসি, বাংলাদেশ ব্যাংক ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সম্মিলিতভাবে বাজারবান্ধব কোনো কার্যকর প্রণোদনা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ না করে পাঁচটি ব্যাংকের একীভূতকরণ আমানতকারী ও শেয়ারহোল্ডারদের বড় ধরনের আর্থিক সংকটে ফেলেছে। একই সময়ে বাজারে আইপিওর মাধ্যমে কোনো মানসম্পন্ন ও আকর্ষণীয় কোম্পানির তালিকাভুক্তিও হয়নি।
স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, বাজার পুনর্গঠন ও স্থিতিশীলতার জন্য বিসিআইএ ৯ দফা প্রস্তাব দিয়েছে। এসব প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে—একই শেয়ার ব্যবহার করে ডেইলি ট্রেডিং বা নেটিং নিষিদ্ধ করা, একীভূত হওয়া পাঁচ ব্যাংকের ক্ষতিগ্রস্ত শেয়ারহোল্ডারদের ন্যায্য ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা, পদ্মা সেতুর মতো বড় প্রকল্প ও বহুজাতিক কোম্পানিগুলোকে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত করা এবং ৫০ কোটি টাকার বেশি তহবিল প্রয়োজন হলে কোম্পানিগুলোর জন্য শেয়ারবাজার থেকে মূলধন সংগ্রহ বাধ্যতামূলক করা।
এছাড়া দুর্বল কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন, সংশ্লিষ্ট পরিচালকদের শেয়ার কেনাবেচা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা এবং ২০১০ সাল থেকে ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা তহবিল থেকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবিও স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে।




