ঢাকা | শুক্রবার
৩০শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৬ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

দুঃখ ও দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তির জন্য মহানবীর (সা.) দোয়ার উপদেশ

দুঃখ, দুশ্চিন্তাজীবনের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশপ্রতিটি মানুষ জীবনের কোনো না কোনো সময়ে মানসিকশারীরিক দুশ্চিন্তার মুখোমুখি হয়এমন সময় একজন মুমিনের কর্তব্য হলো মহান আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করাইসলামে জীবনের দুঃখ-কষ্ট, ভীতিবোধ, ঋণের বোঝামানুষের কাছ থেকে যে কোনো নিপীড়নের সময় আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করার জন্য বিভিন্ন দোয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

মহানবী মুহাম্মদ (সা.) নিজে এমন পরিস্থিতি থেকে মুক্তির জন্য নিয়মিত দোয়া করতেন। আনাস (রা.) বর্ণনা করেছেন, একবার রাসুল (সা.) তাঁর সেবার জন্য একটি কিশোরকে খুঁজতে বলেন। এরপর আবু তালহা (রা.) তাকে নিয়ে যান। কিশোরটি রাসুল (সা.)-এর পাশে সেবা করত। তিনি দেখেছেন, রাসুল (সা.) প্রায়ই এই বিশেষ দোয়া পড়তেন:

«اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْهَمِّ وَالْحزنِ، وَالْعَجْزِ وَالْكَسَلِ، وَالْبُخْلِ وَالْجُبْنِ، وَضَلَعِ الدَّيْنِ وَغَلَبَةِ الرِّجَالِ»

উচ্চারণ: ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আউযুবিকা মিনাল হাম্মি ওয়াল হুাযানি, ওয়াল আজাযি ওয়াল কাসালি, ওয়াল বুখলি ওয়াল জুবনি, ওয়া দালায়িদ দাইনি ওয়া গালাবাতির রিজালি।’ অর্থাৎ, “হে আল্লাহ, আমি আপনার আশ্রয় চাই দুশ্চিন্তা ও দুঃখ থেকে, অপারগতা ও অলসতা থেকে, কৃপণতা ও ভীরুতা থেকে, ঋণের বোঝা ও মানুষের নিপীড়ন থেকে।”

এই দোয়া শুধু মনকে শান্তি দেয় না, বরং জীবনের বিভিন্ন সমস্যা মোকাবেলায় আত্মবিশ্বাসও জাগায়। ইসলামে এমন দোয়া মুমিনের জন্য মানসিক শক্তি ও ধৈর্য বৃদ্ধি করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায় হিসেবে গণ্য করা হয়। দুশ্চিন্তা, ভীতিবোধ বা ঋণের বোঝা অনুভূত হলে এই দোয়া পড়ার মাধ্যমে একজন মানুষ আল্লাহর সাহায্য ও রক্ষা কামনা করতে পারেন, যা তার জীবনে মানসিক প্রশান্তি ও শিথিলতা নিয়ে আসে। বিশেষ করে যারা বিভিন্ন সমস্যার মধ্যে ভুগছেন, তাদের জন্য এই দোয়া আল্লাহর প্রতি আত্মসমর্পণের মাধ্যমে মুক্তি ও আশ্রয়ের একটি শক্তিশালী মাধ্যম।

যা সহজভাবে বলা যায়, জীবনের প্রতিটি দুঃখ, দুশ্চিন্তা বা চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় মহান আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়া মুমিনের নৈতিক ও আধ্যাত্মিক দায়িত্ব। মহানবীর (সা.) নির্দেশিত এই দোয়া সেই দুঃসময়ে আশ্রয় ও সান্ত্বনার অন্যতম পথ।

সংবাদটি শেয়ার করুন