শামীম হাসান দম্পতির বিদেশ ভ্রমণের শখ বিখ্যাত। সুযোগ পেলেই বছরে অন্তত একবার তারা বিদেশ ভ্রমণে যান। গত বছরের নভেম্বর মাসে তারা সিদ্ধান্ত নেন ইংরেজি নববর্ষ উদযাপনের জন্য থাইল্যান্ডের ব্যাংকক ভ্রমণ করবেন। দুজনই ভিসার জন্য আবেদন করলেও, চার বছর আগের মতো এবার দ্রুত ভিসা মিললো না। আবেদনের পর দিনগুলোতে পাসপোর্ট ফেরত না পাওয়ায় শামীম নিজেই খোঁজ নেন। জানা যায়, এখন থাইল্যান্ডের ভিসা পেতে কমপক্ষে ৪৫ দিন অপেক্ষা করতে হয়। ফলে শামীম দম্পতি বিদেশে গিয়ে ইংরেজি বর্ষবরণ করতে পারেননি।
শামীম একা নন। বিদেশে যেতে চাওয়া অনেক বাংলাদেশিই এখন ভিসা জটিলতায় ভুগছেন। দেশটির পাসপোর্ট থাকলেও অনেক দেশে ভিসা পাওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (টোয়াব) সভাপতি রাফেউজ্জামান জানান, “ইন্ডিয়া, ইউএই, কাতার, বাহরাইন, ওমান, উজবেকিস্তান, সৌদি আরব, ভিয়েতনাম এসব দেশে পর্যটন ভিসা দেওয়া হচ্ছে না। থাইল্যান্ডে ভিসা নিতে বেশি সময় লাগছে, সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় ভিসার রেশিও কম। ফিলিপাইন এবং ইন্দোনেশিয়াতেও ভিসা প্রক্রিয়া জটিল। শ্রীলঙ্কার অ্যারাইভাল ভিসাও দেরিতে মিলছে।”
২০২৪ সালের আগস্টে দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতার পর ভারত বাংলাদেশিদের জন্য পর্যটন ভিসা সীমিত করে। অন্যান্য দেশও এ পরিস্থিতিকে বিবেচনা করে সতর্কতা অবলম্বন করছে। অনেক শিক্ষার্থীও এই কারণে বিদেশে যেতে পারছেন না। হাঙ্গেরি ও যুক্তরাষ্ট্রে স্কলারশিপ পাওয়া তানজুমান আলম ঝুমা এক বছরের বেশি সময় ধরে ভিসার জন্য চেষ্টা করেও যেতে পারেননি।
ভিসা জটিলতার পেছনে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার পাশাপাশি কিছু বাংলাদেশির অনিয়মিত বা অবৈধ প্রবেশের প্রবণতাকেও দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা। সাবেক রাষ্ট্রদূত এম হুমায়ুন কবীরের মতে, “অনিয়মিতভাবে বিদেশে প্রবেশের প্রবণতা, পাশাপাশি দেশভিত্তিক রাজনৈতিক বিবাদ ও কোন্দল, এসব কারণে বিদেশি প্রশাসন বাংলাদেশিদের প্রতি সতর্ক হচ্ছে।”
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এমন পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য দেশের ভেতরে দৃশ্যমান উদ্যোগ নেওয়া এবং কূটনৈতিকভাবে সমস্যা সমাধানের পদক্ষেপ নিতে হবে। এছাড়া, ভিসা ব্যবস্থায় অনিয়ম বা অসৎ ব্যবহার রোধ করা গেলে সাধারণ নাগরিকদের ভোগান্তি কমানো সম্ভব।




