ঢাকা | শুক্রবার
৩০শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৬ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

এলপিজির কৃত্রিম সংকট ঠেকাতে প্রশাসনের নির্দেশনা

দেশে এলপিজি গ্যাসের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে উল্লেখ করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনকে নির্দেশনা দিয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানিখনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়রোববার (৪ জানুয়ারি) মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতেতথ্য জানানো হয়

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে খুচরা পর্যায়ে এলপিজির দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় বিষয়টি সরকারের নজরে এসেছে। পরিস্থিতি পর্যালোচনায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সংশ্লিষ্ট বিভাগের সচিব ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নিয়ে জরুরি বৈঠক করেন। বৈঠকে এলপিজির সরবরাহ, আমদানি ও বাজার পরিস্থিতি বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হয়।

এ পরিস্থিতিতে এলপিজির বাজার স্বাভাবিক রাখতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে রোববার বিকেল ৩টায় আগারগাঁওয়ে জ্বালানি বিভাগের সচিবের সভাপতিত্বে এলপিজি অনার্স অ্যাসোসিয়েশন ও এলপিজি অপারেটরদের সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে অংশগ্রহণকারীরা চলমান সংকট নিয়ে নিজেদের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন।

আলোচনায় জানানো হয়, দেশে এলপিজি গ্যাসের কোনো ঘাটতি নেই। পর্যাপ্ত মজুত থাকা সত্ত্বেও স্থানীয় পর্যায়ের কিছু খুচরা বিক্রেতা কৃত্রিমভাবে সংকট তৈরি করেছে। যদিও বিশ্ববাজারে দাম বৃদ্ধি, জাহাজ সংকট এবং কিছু কার্গোর ওপর নিষেধাজ্ঞার কারণে আমদানি পর্যায়ে সীমিত চাপ রয়েছে, তবে তা বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ার যৌক্তিক কারণ হতে পারে না।

জ্বালানি বিভাগের তথ্যমতে, গত নভেম্বর মাসে দেশে এলপিজি আমদানির পরিমাণ ছিল ১ লাখ ৫ হাজার মেট্রিক টন। পরবর্তী ডিসেম্বর মাসে সেই আমদানি বেড়ে দাঁড়ায় ১ লাখ ২৭ হাজার মেট্রিক টনে। ফলে আমদানি বাড়ার পরও বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ার কোনো যুক্তিসংগত কারণ নেই বলে জানিয়েছে বিভাগটি।

সভায় আরও জানানো হয়, দেশের মোট এলপিজি চাহিদার প্রায় ৯৮ শতাংশই বেসরকারি খাতের আমদানিকারকদের মাধ্যমে পূরণ করা হয়। তবে বৈশ্বিক নানা সীমাবদ্ধতার কারণে লাইসেন্সপ্রাপ্ত ৩২টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মাত্র ১৫টি প্রতিষ্ঠান ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ১২ লাখ ৫৮ হাজার ১৫২ দশমিক ৪৫ মেট্রিক টন এলপিজি আমদানি করতে সক্ষম হয়েছে।

এলপিজি অপারেটর ও অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা জানান, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) চলতি মাসে এলপিজির দাম বাড়াতে পারেএমন ধারণা থেকেই খুচরা পর্যায়ে কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছেপরবর্তীতে রোববার সন্ধ্যায় বিইআরসি ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম এক হাজার ২৫৩ টাকা থেকে বাড়িয়ে এক হাজার ৩০৬ টাকা নির্ধারণ করে

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, গ্রিন ফুয়েল হিসেবে এলপিজির ব্যবহার বাড়াতে অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে উত্থাপিত কিছু দাবিযেমন এলসি প্রক্রিয়া সহজীকরণ ও ভ্যাট হ্রাসনিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এছাড়া বাজারে সৃষ্ট কৃত্রিম সংকট নিয়ে এলপিজি অপারেটর্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেবে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহায়তা চাওয়া হয়েছে। এসব পদক্ষেপের ফলে দ্রুতই এলপিজির বাজার ও দাম স্বাভাবিক হবে বলে আশা প্রকাশ করেছে মন্ত্রণালয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন