ঢাকা | শুক্রবার
৩০শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৬ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নির্বাচনী মাঠে কোন দলের নারী প্রার্থী কত?

টানা কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন নারীরা। রাষ্ট্রক্ষমতার শীর্ষে কখনো বেগম খালেদা জিয়া, কখনো শেখ হাসিনার নেতৃত্বে পরিচালিত হয়েছে দেশ। তবে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে দীর্ঘ প্রায় ৩৫ বছর পর পুরুষ প্রধানমন্ত্রী আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবুও নির্বাচনী মাঠে নারীদের অংশগ্রহণ একেবারে অনুপস্থিত নয়; সংখ্যায় কম হলেও তারা গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান ধরে রেখেছেন।

নির্বাচনে অংশ নিতে এবার মোট ২ হাজার ৫৬৯ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এর মধ্যে নারী প্রার্থী রয়েছেন ১০৭ জন, যা মোট প্রার্থীর মাত্র ৪ দশমিক ২৬ শতাংশ। নারী প্রার্থীদের মধ্যে ৬৭ জন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মনোনীত এবং বাকি ৪০ জন স্বতন্ত্র হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

নারী প্রার্থী দেওয়ার ক্ষেত্রে এগিয়ে রয়েছে দেশের অন্যতম বড় দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলটি শুরুতে ১১ জন নারী নেত্রীকে মনোনয়ন দিলেও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর সেই সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ১০ জনে।

তরুণদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৪৪ জন প্রার্থীর মধ্যে তিনজন নারীকে মনোনয়ন দেয়। তবে দলটির ভেতরে মতবিরোধের কারণে কয়েকজন নারী প্রার্থী ইতোমধ্যে পদত্যাগ করেছেন। এর মধ্যে ডা. তাসনিম জারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন, অন্যরা নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।

অন্যদিকে, এনসিপির জোটসঙ্গী জামায়াতে ইসলামীসহ অন্যান্য ধর্মভিত্তিক দল এবারও কোনো নারী প্রার্থী দেয়নি। অতীতের মতো এবারও ইসলামিক দলগুলোর প্রার্থী তালিকায় নারীদের জায়গা হয়নি।

বিএনপির নারী প্রার্থীরা

বিএনপির মনোনীত নারী প্রার্থীরা হলেন— নাটোর-১ আসনে ফারজানা শারমিন, যশোর-২ এ মোছা. সাবিরা সুলতানা, ঝালকাঠি-২ এ ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টু, শেরপুর-১ এ সানসিলা জেবরিন, মানিকগঞ্জ-৩ এ আফরোজা খান রিতা, ঢাকা-১৪ তে সানজিদা ইসলাম তুলি, ফরিদপুর-২ এ শামা ওবায়েদ, সিলেট-২ এ মোছা. তাহসিনা রুশদীর, ফরিদপুর-৩ এ নায়াব ইউসুফ কামাল এবং মাদারীপুর-১ আসনে নাদিরা মিঠু।

এনসিপির নারী প্রার্থীরা

এনসিপির মনোনীত নারী প্রার্থীরা হলেন— ঝালকাঠি-১ এ ডা. মাহমুদা মিতু, ঢাকা-১৯ এ দিলশানা পারুল এবং ঢাকা-২০ এ নাবিলা তাসনিদ।

এছাড়া অন্যান্য দলের মধ্যে জাতীয় পার্টি (জি এম কাদের) পাঁচজন, গণসংহতি আন্দোলন চারজন, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি তিনজন এবং গণঅধিকার পরিষদ তিনজন নারী প্রার্থী দিয়েছে। তবে জোট রাজনীতির কারণে এসব দলের অনেক নারী প্রার্থীর শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে থাকা অনিশ্চিত।

সম্পদের হিসাবে কারা এগিয়ে

নারী প্রার্থীদের মধ্যে সম্পদের দিক থেকে শীর্ষে রয়েছেন বিএনপির আফরোজা খানম রিতা। মানিকগঞ্জ-৩ আসনের এই প্রার্থীর বার্ষিক আয় এক কোটি ৬০ লাখ টাকার বেশি। তার অস্থাবর সম্পদের বাজারমূল্য প্রায় ৮৬ কোটি টাকা এবং স্থাবর সম্পদ রয়েছে ১১ কোটির বেশি। রিতা মুন্নু গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান এবং তার বিরুদ্ধে নয়টি মামলা রয়েছে।

আয়ের দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে আছেন বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় তিনি বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হন। তার বার্ষিক আয় প্রায় ৯৮ লাখ টাকা, যা ছয় বছরে প্রায় ২২ গুণ বেড়েছে। তিনি ঢাকায় একাধিক জমি ও ফ্ল্যাটের মালিক।

ঢাকা-৯ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. তাসনিম জারার বার্ষিক আয় সাত লাখ টাকার বেশি। তার মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ২০ লাখ টাকা। তিনি গণচাঁদার মাধ্যমে নির্বাচনী ব্যয় নির্বাহের কথা জানিয়েছেন।

বিএনপির প্রার্থী সানসিলা সাবরিন প্রিয়াঙ্কা পেশায় চিকিৎসক। তার বার্ষিক আয় প্রায় সাত লাখ টাকা এবং ঢাকার মিরপুরে দুটি ফ্ল্যাটের মালিক তিনি। ফরিদপুর-২ আসনের প্রার্থী শামা ওবায়েদের বার্ষিক আয় প্রায় ২২ লাখ টাকা এবং তার বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলো থেকে তিনি খালাস পেয়েছেন।

সিলেট-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী তাহসিনা রুশদীরের আয়ের উৎস পেনশন ও সঞ্চয়পত্র। তার অস্থাবর সম্পদের মূল্য প্রায় দেড় কোটি টাকা এবং তিনি প্রায় ছয় একর কৃষিজমির মালিক।

কম আয়ে নির্বাচনী লড়াই

মাদারীপুর-১ আসনের প্রার্থী নাদিরা মিঠুর বার্ষিক আয় প্রায় ১০ লাখ টাকা। যশোর-২ আসনের সাবিরা সুলতানা ও ঝালকাঠি-২ এর ইলেন ভুট্টোর বার্ষিক আয় সাত লাখ টাকার নিচে। ফরিদপুর-৩ আসনের নায়াব ইউসুফ কামালের বার্ষিক আয় প্রায় নয় লাখ টাকা।

সব মিলিয়ে এবারের নির্বাচনে নারীদের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম হলেও রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রভাবের দিক থেকে কয়েকজন নারী প্রার্থী ইতোমধ্যেই আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন