বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় হামলার অভিযোগে মামলার আসামী হারিসুল বারিকে কুড়িগ্রাম-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য পদে প্রার্থী করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। মামলায় ১ নম্বর আসামী সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আর ২৭ নম্বর আসামী হিসেবে রয়েছে হারিসুল বারি। এ কারণে নির্বাচনী এলাকায় তার প্রার্থীতা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা দেখা দিয়েছে।
জানানো হয়, জুলাই বিপ্লবে ছাত্র-জনতাকে হত্যার বিচার চেয়ে হরিপদ মন্ডল ঢাকা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে (সাভার) ৯১ জনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলার ২৭ নম্বরে হারিসুল বারির নাম আছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ তাকে কুড়িগ্রাম-১ আসন থেকে মনোনয়ন দেয়। পরে নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে রিটার্নিং অফিসার তা বৈধ ঘোষণা করেন। এরপর থেকে হারিসুল বারি এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন এবং তার সঙ্গে বিশাল গাড়িবহর রয়েছে।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ১ নম্বর আসামী শেখ হাসিনা ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়ে কঠোর হাতে দমন করার নির্দেশ দেন। ২ নম্বর আসামী ওবায়দুল কাদেরও বিভিন্ন সময় ছাত্র-জনতাকে দমন করার নির্দেশ দেন। এরপর ৩ থেকে ৯১ নম্বর আসামিরা পরিকল্পনা ও সহযোগিতার মাধ্যমে পুলিশ ও বিভিন্ন আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগসহ অন্যান্য অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের দিয়ে হামলা চালান। এই হামলায় হরিপদ মন্ডলের পুত্র শুভজিৎ মন্ডলসহ অনেক ছাত্র আহত হন।
নির্বাচনী এলাকার ভোটাররা জানান, হারিসুল বারি আগের কোনো সময়ে এলাকায় নিয়মিত উপস্থিত থাকতেন না। তিনি মূলত জাপা ও আলীগের এমপিদের সঙ্গে যুক্ত ঠিকাদারী ব্যবসায় ছিলেন এবং তা থেকে তিনি নিজের ব্যবসায়িক অবস্থান গড়ে তুলেছিলেন। তবে ৫ আগস্টের পর হঠাৎ চরমোনাই পীরের ইসলামী আন্দোলনে যোগ দিয়ে কুড়িগ্রাম-১ আসনে প্রার্থী হন। তারা মনে করছেন, এটি ফ্যাসিবাদের পুনর্বাসনের মতো ঘটনা।
একাধিক বৈষম্যবিরোধী ছাত্র নেতা বলেন, মামলার এজাহারে নাম থাকা একজন ব্যক্তিকে নির্বাচনে প্রার্থী করা জুলাই বিপ্লবে অংশ নেওয়া ছাত্রদের জন্য অত্যন্ত কষ্টের বিষয়। হারিসুল বারি গণমাধ্যমকে ফোনে জানান, তিনি তখন নাগেশ্বরীতে ছিলেন এবং তার নামে ঢাকার সাভারে মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। তার নির্বাচনী হলফনামায়ও এটি উল্লেখ আছে। পুলিশ তদন্তে তার কোনো সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি।




