ঢাকা | বৃহস্পতিবার
২৯শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৫ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

‘ভারতে খেলবে না বাংলাদেশ’, আইসিসিকে চিঠি দিলো বিসিবি

আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের মাটিতে খেলতে না চাওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। এর মধ্যে দিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের ২০২৪ সালের আগস্টের পর থেকে তৈরি হওয়া কূটনৈতিক দূরত্ব দেশ দুটির ক্রিকেট অঙ্গনেও প্রভাব ফেলে নতুন মাত্রা পেলো।

রোববার দুপুরে বিসিবির ১৭ জন পরিচালক এক জরুরি সভায় বসে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হন। সভা শেষে বোর্ডের একজন শীর্ষ পরিচালক গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন, ভারতের কোনো ভেন্যুতেই বাংলাদেশ দল খেলবে না। এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলকে (আইসিসি) আনুষ্ঠানিকভাবে ই-মেইল পাঠানো হয়েছে।

শুরুতে আইসিসির কাছে একাধিক দাবি জানানোর কথা থাকলেও, শেষ পর্যন্ত নিরাপত্তা শঙ্কাকেই প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে বিসিবি। চিঠিতে বলা হয়েছে, দলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব না হওয়ায় ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া কঠিন। সেই সঙ্গে বিকল্প ভেন্যু নির্ধারণের আবেদনও করা হয়েছে।

২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ভারত ও শ্রীলঙ্কার যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এর আগে পাকিস্তানের সঙ্গে রাজনৈতিক জটিলতার কারণে তাদের সব ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় আয়োজন করা হয়েছিল। একই নজির দেখিয়ে বাংলাদেশও নিজেদের ম্যাচ অন্য ভেন্যুতে সরানোর দাবি তুলেছে।

আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৮ মার্চ পর্যন্ত চলবে এই বিশ্বকাপ। ‘সি’ গ্রুপে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, নেপাল ও ইতালি। ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, বাংলাদেশের চারটি ম্যাচই ছিল ভারতের বিভিন্ন শহরে। তবে বিসিবির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই সূচি পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

এর মধ্যেই বিশ্বকাপের জন্য প্রাথমিক স্কোয়াড প্রকাশ করেছে বিসিবি। প্রত্যাশিতভাবেই অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন লিটন দাস, সহ-অধিনায়ক সাইফ হাসান। দলে জায়গা হয়নি জাকের আলী ও মাহিদুল ইসলাম অঙ্কনের। ভালো ফর্মে থেকেও বাদ পড়েছেন নাজমুল হোসেন শান্ত, যা নিয়ে আলোচনা চলছে।

বিপিএলে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের সুবাদে নজরে এসেছেন রিপন মন্ডল ও আলিস ইসলাম। নির্বাচকরা জানিয়েছেন, ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রাথমিক স্কোয়াডে পরিবর্তনের সুযোগ থাকবে। এরপর কোনো পরিবর্তন আনতে হলে আইসিসির টেকনিক্যাল কমিটির অনুমোদন প্রয়োজন হবে।

সব মিলিয়ে, নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক বাস্তবতার কারণে বাংলাদেশের এই অবস্থান বিশ্বকাপের সূচি ও আয়োজন নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, আইসিসি এই দাবির বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন