ঢাকা | শুক্রবার
৩০শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৬ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নিউয়র্কের আদালতে বিচারের মুখোমুখি করা হবে মাদুরোকে

যুক্তরাষ্ট্রের হাতে আটক হয়েছেন ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো—এমন তথ্য সামনে আসার পর আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনার পর ভেনেজুয়েলার ভেতরে আর কোনো সামরিক অভিযানের প্রয়োজন নেই বলে ইঙ্গিত দিয়েছে ওয়াশিংটন।

যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটর মাইক লি জানান, মাদুরো আটক হওয়ার পর তিনি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে কথা বলেন। সেই আলোচনায় রুবিও স্পষ্ট করে জানান, মাদুরো এখন যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে থাকায় ভেনেজুয়েলায় আর নতুন করে সামরিক হামলা চালানোর পরিকল্পনা নেই।

মাইক লি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, মাদুরোকে আটক করার ওয়ারেন্ট বাস্তবায়নের সময় অভিযানে যুক্ত ব্যক্তিদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে মধ্যরাতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ সরকারি সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, এই অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর অভিজাত সন্ত্রাসবিরোধী ইউনিট ডেল্টা ফোর্স সরাসরি অংশ নেয়। বিশেষ কৌশলগত অভিযানের মাধ্যমেই মাদুরোকে আটক করা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আটক মাদুরোর বিচার যুক্তরাষ্ট্রেই হবে বলে নিশ্চিত করেছে ওয়াশিংটন। মার্কিন আইন অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর বিচার অন্য কোনো দেশে নয়, শুধুমাত্র যুক্তরাষ্ট্রের আদালতেই চলবে।

এদিকে মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডি জানিয়েছেন, ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে নিউইয়র্কের সাউথ ডিস্ট্রিক্ট আদালতে একাধিক গুরুতর অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

বন্ডির ভাষ্য অনুযায়ী, মাদুরোর বিরুদ্ধে মাদক-সন্ত্রাসবাদ, কোকেন আমদানি, মেশিনগান ও ধ্বংসাত্মক ডিভাইস রাখার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে মাদুরোর স্ত্রী ও ফার্স্ট লেডি সিলিয়া ফ্লোরেসের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট অভিযোগ কী, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি তিনি।

মার্কিন সেনাদের প্রশংসা করে পাম বন্ডি বলেন, সাহসী সেনারা অত্যন্ত জটিল ও সফল অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে এই আন্তর্জাতিক মাদক পাচারকারীদের আটক করতে সক্ষম হয়েছেন।

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছে যে নিকোলাস মাদুরো ভেনেজুয়েলায় একটি বিশাল মাদক নেটওয়ার্ক পরিচালনা করতেন, যেখানে উৎপাদিত মাদক যুক্তরাষ্ট্রে পাচার করা হতো। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে ২০২০ সালে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয় এবং তাকে আটক বা গ্রেপ্তারে সহায়তার জন্য ৫০ মিলিয়ন ডলার পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল—যা শেষ পর্যন্ত বাস্তবে রূপ নিল।

সংবাদটি শেয়ার করুন