জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে পদত্যাগ করেছেন দলের সদস্যসচিব সৈয়দা নীলিমা দোলা। ইতোমধ্যে তিনি তার পদত্যাগপত্র দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে পাঠিয়েছেন। শনিবার নিজের ফেসবুক পেজে পদত্যাগ নিশ্চিত করে দোলা লিখেছেন, তিনি পদত্যাগপত্র “বন্ধু, কমরেড ও সাংবাদিকদের জন্য উন্মুক্ত” করেছেন।
পদত্যাগপত্রে নীলিমা দোলা উল্লেখ করেছেন, তিনি এনসিপির সকল দায়িত্ব ও পদ থেকে সরে যাচ্ছেন। তিনি জানান, “এনসিপি এখন আর মধ্যপন্থী রাজনীতির নতুন পথ সৃষ্টি করতে পারছে না। আমি মনে করেছিলাম, দলটি জুলাই পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রীয় সংস্কারের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করবে, কিন্তু সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তগুলো আমাকে এটা স্পষ্ট করে দিয়েছে যে দলটি সম্পূর্ণভাবে ডানপন্থী অবস্থানে চলে গেছে।”
দোলা আরো বলেন, “জামায়াতের সঙ্গে এনসিপির নির্বাচনী জোট কোনো কৌশলগত জোট নয়। যদি তা হতো, এত নেতা-কর্মী পদত্যাগ করত না। দলীয় নেতাদের চোখে ধুলো দিয়ে এবং মনোনয়ন দিয়ে প্রতারণা করা হয়েছে।”
তিনি স্পষ্ট করেছেন যে পদত্যাগের পেছনে তার ব্যক্তিগত স্বার্থ বা ক্ষমতার দাবি নেই। “আমাকে কোনো ক্ষমতা দেওয়া হয়নি, বরং আমার প্রগতিশীল মানসিকতা এবং ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারই এনসিপিকে শক্তি দিয়েছে।” তিনি বামপন্থীদের ‘ফ্রেমিং’ নিয়ে মন্তব্য করে প্রশ্ন তুলেছেন, যারা দলের ভেতরে থাকছে, তারা কি সব ডানপন্থী?
দোলা উল্লেখ করেন, তিনি এনসিপিতে থাকার আগেও রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছেন। দলের ভেতরে তিনি চেষ্টা করেছেন নারী, শিশু, শ্রমিক, আদিবাসী, হিজড়া ও হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষদের একত্রিত করতে, কিন্তু “দলের মনমরা ও দায়সারা অবস্থান আমার রাজনৈতিক অভিপ্রায় এবং সাধারণ মানুষের স্বার্থের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।”
তিনি বলেন, “আমার এবং আমার মতো কর্মীদের পদত্যাগ প্রমাণ করে যে বাংলাদেশের রাজনীতিতে এনসিপির বাইরেও একটি শক্তিশালী পক্ষশক্তি রয়েছে, যারা জনতা ও জমিনের সঙ্গে সুপরিচিত।”
শেষে দোলা বলেন, “নেতৃত্ব চাইলে রাজনৈতিক দরকষাকষি করতে পারে, কিন্তু এনসিপির জন্য তা মোটেও ঠিক নয়। দলটি হাজারো শহীদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে রাজনীতি শুরু করেছে। ধর্মীয় রাজনীতিকে ফ্রন্টে এনে খেলাধুলার জন্য শহীদের জীবন দেয়নি। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে কোনো ধর্মীয় অভ্যুত্থান হয়নি, এবং এখন দলের নেতৃত্ব তা ভুল পথে নিয়ে যাচ্ছে।”




