ঢাকা | বৃহস্পতিবার
২৯শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৫ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আবহাওয়ায় অশনিসংকেত, ৪ ডিগ্রিতে নামতে পারে তাপমাত্রা

বছরের শুরুতেই দেশের ওপর শীতের কড়া থাবা। জানুয়ারির শুরু থেকেই উত্তর থেকে দক্ষিণ—সারা দেশে শীতের প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী এক মাসে শীতের দাপট আরও বাড়তে পারে এবং এই সময়ে দেশের কোনো কোনো এলাকায় তাপমাত্রা নেমে আসতে পারে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, চলতি জানুয়ারি মাসজুড়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ওপর দিয়ে মোট পাঁচটি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এক মাস মেয়াদি পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, এর মধ্যে ২ থেকে ৩টি হতে পারে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের এবং আরও ১ থেকে ২টি মাঝারি থেকে তীব্র শৈত্যপ্রবাহের রূপ নিতে পারে।

তবে এ সময়ে বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড় বা কোনো নিম্নচাপ সৃষ্টির সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। একই সঙ্গে জানুয়ারি মাসে দেশে স্বাভাবিক মাত্রার বৃষ্টিপাত হতে পারে এবং দিন ও রাতের তাপমাত্রাও মোটামুটি স্বাভাবিক সীমার মধ্যেই থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে শীতের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে কুয়াশার প্রকোপ। আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, চলতি মাসে মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত নদ-নদী অববাহিকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। অন্যত্র হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা দেখা যেতে পারে। কোনো কোনো দিন এই কুয়াশা দুপুর পর্যন্ত স্থায়ী হওয়ারও আশঙ্কা রয়েছে। ঘন কুয়াশার কারণে দিন ও রাতের তাপমাত্রার ব্যবধান কমে গিয়ে শীতের অনুভূতি আরও তীব্র হতে পারে। তবে জানুয়ারি মাসজুড়ে দেশের প্রধান নদ-নদীগুলোতে স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বজায় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

আবহাওয়াবিদদের ব্যাখ্যায়, শীতকালে তাপমাত্রা যখন নির্দিষ্ট মাত্রার নিচে নেমে আসে, তখন সেটিকে শৈত্যপ্রবাহ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮ দশমিক ১ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে তাকে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বলা হয়। তাপমাত্রা ৬ দশমিক ১ থেকে ৮ ডিগ্রির মধ্যে থাকলে তা মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ, ৪ দশমিক ১ থেকে ৬ ডিগ্রি হলে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ এবং ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নামলে তাকে অতি তীব্র শৈত্যপ্রবাহ হিসেবে গণ্য করা হয়।

শীতের এই দাপটের প্রভাব পড়েছে রাজধানীতেও। শনিবার সকালে ঢাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১২ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সকাল ৬টায় বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৯৯ শতাংশ, যা শীতের অনুভূতিকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন