ঢাকা | বৃহস্পতিবার
২৯শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৫ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ইরানে বিক্ষোভ, হস্তক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিলেন ট্রাম্প

ইরানে নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি ও দীর্ঘস্থায়ী অর্থনৈতিক সংকটের বিরুদ্ধে ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভ ক্রমেই ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে প্রাণহানির খবর আসার পর পরিস্থিতি নিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালানো হলে যুক্তরাষ্ট্র নীরব থাকবে না।

শুক্রবার নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ইরানের কর্তৃপক্ষ যদি বিক্ষোভকারীদের দমন করতে সহিংসতা চালায় এবং হত্যাকাণ্ডে জড়ায়, তবে যুক্তরাষ্ট্র তাদের পাশে দাঁড়াবে। তাঁর ভাষায়, “আমরা সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছি।”

গত তিন বছরে ইরানে এটিই সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক বিক্ষোভ বলে মনে করা হচ্ছে। দেশটির একাধিক প্রদেশে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে এবং অনেক জায়গায় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিমাঞ্চলের শহর কুহদাশতে রাতভর সংঘর্ষ চলাকালে নিরাপত্তা বাহিনীর একজন স্বেচ্ছাসেবক সদস্য নিহত হন। পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় সংঘর্ষে অন্তত ছয়জন বেসামরিক নাগরিকের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

গত রোববার থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলনের পেছনে রয়েছে সরকারের অর্থনৈতিক ব্যর্থতা, মুদ্রার বড় ধরনের অবমূল্যায়ন এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি। দোকানদার ও সাধারণ মানুষ একযোগে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানালে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর প্রথম মেয়াদে ইরানের সঙ্গে করা আন্তর্জাতিক পারমাণবিক চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নেন। এর পর থেকেই দেশটির ওপর নতুন করে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়, যা ইরানের অর্থনীতিকে দীর্ঘমেয়াদে দুর্বল করে দেয়।

যদিও বর্তমান আন্দোলনটি ২০২২ সালের মাহসা আমিনির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে হওয়া গণবিক্ষোভের মতো ব্যাপক নয়, তবুও এটি ইরানের রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতাকে নতুন করে সামনে এনে দিয়েছে। মাহসা আমিনির ঘটনায় দেশজুড়ে যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছিল, তাতে কয়েক শ মানুষ নিহত হন এবং নিরাপত্তা বাহিনীর বহু সদস্য প্রাণ হারান।

বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরান সরকারের ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন