দ্রুত কমে আসা জন্মহার এখন চীনের জন্য বড় সামাজিক ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির এই দেশটি পরিস্থিতি সামাল দিতে একের পর এক নীতি গ্রহণ করলেও আশানুরূপ ফল মিলছে না। এমন বাস্তবতায় এবার সরকার নিয়েছে এক ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত, যা দেশটির ভেতরে ও বাইরে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সরকারি ঘোষণায় জানানো হয়েছে, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে চীনে কন’ডমসহ জন্মনিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত বিভিন্ন সামগ্রীর ওপর ১৩ শতাংশ বিক্রয় কর আরোপ করা হবে। একই সঙ্গে শিশু লালন-পালন ও যত্নসংক্রান্ত পণ্য ও সেবায় কর ছাড় দেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে দম্পতিদের সন্তান নেওয়ার প্রতি আগ্রহী করে তোলাই সরকারের মূল লক্ষ্য।
দীর্ঘ সময় ধরে চীনে এক সন্তান নীতি কার্যকর ছিল। পরে জনসংখ্যা কমতে শুরু করলে ধাপে ধাপে সেই নীতি শিথিল করা হয়। সর্বশেষ কর সংস্কারের আওতায় বিবাহ-সংক্রান্ত সেবা, পরিবারকল্যাণমূলক কিছু খাত এবং বয়স্কদের যত্নসেবাকে ভ্যাট থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পিতামাতার ছুটি বাড়ানো এবং নগদ আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে।
সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চীনের জনসংখ্যা টানা তিন বছর ধরে হ্রাস পাচ্ছে। শুধু ২০২৪ সালেই দেশটিতে জন্ম নিয়েছে ৯ দশমিক ৫৪ মিলিয়ন শিশু, যা এক দশক আগের তুলনায় প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। এই উদ্বেগজনক প্রবণতাই সরকারকে আরও কঠোর ও নতুন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে।
তবে জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর ওপর কর আরোপ নিয়ে উদ্বেগও বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, এতে অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণ এবং এইচআইভি সংক্রমণের ঝুঁকি বৃদ্ধি পেতে পারে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে রসিকতার পাশাপাশি সমালোচনাও জোরালো হচ্ছে।
গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, চীনে সন্তান লালন-পালনের খরচ অত্যন্ত বেশি। শিক্ষা ব্যয়, কর্মজীবন ও পারিবারিক চাপ এবং ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে অনেক তরুণ দম্পতি সন্তান নিতে আগ্রহী হচ্ছেন না। ফলে শুধু কর বাড়ানো বা ছাড় দেওয়ার মাধ্যমে জন্মহার বাড়ানো সম্ভব হবে কি না—তা নিয়ে এখনো সংশয় রয়ে গেছে।




