ঢাকা | বৃহস্পতিবার
২৯শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৫ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংলাপে প্রস্তুত মাদুরো

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো জানিয়েছেন, মাদক পাচার, তেল ও অভিবাসনসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার পথ খোলা রাখতে চান তিনি। ওয়াশিংটন চাইলে যেকোনো সময় ও যেকোনো স্থানে সংলাপে বসতে প্রস্তুত এমন বার্তাও দেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের চাপ বাড়ার প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মাদুরো এসব কথা বলেন। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি স্পর্শকাতর দাবির বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য এড়িয়ে যান তিনি। ট্রাম্প দাবি করেছেন, ভেনেজুয়েলার একটি ডকিং ফ্যাসিলিটিকে লক্ষ্য করে সিআইএ পরিচালিত হামলা হয়েছে।

বিবিসির তথ্যমতে, এমন প্রেক্ষাপটেই সংলাপের আগ্রহ প্রকাশ করলেন মাদুরো, যখন গত তিন মাস ধরে ক্যারিবিয়ান ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকায় মাদক পাচারের সন্দেহে একাধিক নৌযানকে লক্ষ্য করছে মার্কিন বাহিনী। ট্রাম্প প্রশাসনের ঘোষিত ‘মাদকবিরোধী যুদ্ধের’ অংশ হিসেবে ৩০টির বেশি নৌযানে হামলা হয়েছে। আন্তর্জাতিক জলসীমায় ২ সেপ্টেম্বর প্রথম হামলার পর থেকে এসব অভিযানে প্রাণ হারিয়েছেন ১১০ জনেরও বেশি।

সর্বশেষ বুধবারের অভিযানে মাদক বহনের অভিযোগ তুলে দুটি নৌযানে আঘাত হানা হয়। মার্কিন সামরিক বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ওই নৌযান দুটিতে থাকা পাঁচজন নিহত হন। ট্রাম্প বলেন, হামলায় বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটে এবং লক্ষ্য ছিল ভেনেজুয়েলার একটি ডক এলাকা সংশ্লিষ্ট নৌযান, যা মাদক পাচারের সঙ্গে যুক্ত।

সিএনএন ও নিউইয়র্ক টাইমস সূত্রে জানা গেছে, সিআইএ পরিচালিত একটি ড্রোন হামলা থেকেই বিস্ফোরণটি ঘটতে পারে। এই তথ্য সত্য হলে, ভেনেজুয়েলার ভেতরে যুক্তরাষ্ট্রের এটি প্রথম সরাসরি অভিযান হিসেবে বিবেচিত হবে।

তবে সাক্ষাৎকারে মাদুরো বিষয়টি নিশ্চিত বা অস্বীকার করেননি। এ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “এটি এমন একটি বিষয়, যা নিয়ে হয়তো কয়েক দিনের মধ্যে আলোচনা হতে পারে।”

মাদক ছাড়াও তেল ও অভিবাসন ইস্যুতে আলোচনা করতে আগ্রহী ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট। ট্রাম্প প্রশাসন অভিযোগ করেছে, মাদুরো সরকার দেশের কারাগার ও মানসিক আশ্রয়কেন্দ্র থেকে বন্দিদের জোর করে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠাচ্ছে—যা কারাকাস অস্বীকার করে আসছে।

এদিকে নিষিদ্ধ তেল পরিবহনের অভিযোগে ভেনেজুয়েলার সঙ্গে যুক্ত ট্যাংকারগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ১০ ডিসেম্বর ভেনেজুয়েলার উপকূলের কাছে একটি তেলবাহী জাহাজ জব্দ করা হয়, যা ভেনেজুয়েলা ও ইরান থেকে নিষিদ্ধ তেল বহনে ব্যবহৃত হচ্ছিল বলে দাবি ওয়াশিংটনের। কারাকাস একে ‘আন্তর্জাতিক জলদস্যুতা’ আখ্যা দিয়েছে। এর পর আরও একটি ট্যাংকার জব্দ এবং তৃতীয় একটি ট্যাংকারকে ধাওয়া করা হচ্ছে।

ট্রাম্প প্রশাসন এসব অভিযানে ‘অ-আন্তর্জাতিক সশস্ত্র সংঘাত’ তত্ত্বের কথা বললেও আইন বিশেষজ্ঞরা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের আশঙ্কা তুলেছেন। যুক্তরাষ্ট্র এখনো প্রকাশ্যে প্রমাণ দেয়নি যে লক্ষ্যবস্তু নৌযানগুলোতে সত্যিই মাদক ছিল; যদিও সাউদার্ন কমান্ডের দাবি, গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী নৌযানগুলো পরিচিত মাদক পাচার রুটেই চলাচল করছিল। এই উত্তেজনার মাঝেই সংলাপের প্রস্তাব দিয়ে পরিস্থিতি কূটনৈতিক পথে ফেরানোর ইঙ্গিত দিলেন মাদুরো।

সংবাদটি শেয়ার করুন