ঢাকা | বৃহস্পতিবার
২৯শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৫ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কেন বাজেয়াপ্ত হয় প্রার্থীর জামানত?

জাতীয় সংসদ নির্বাচনসহ বিভিন্ন নির্বাচনে অংশ নেওয়া বহু প্রার্থীর জামানত বাতিল বা বাজেয়াপ্ত হওয়ার ঘটনা প্রায়ই আলোচনায় আসেঅনেকের মধ্যেই প্রশ্ন থাকেকী কারণে একজন প্রার্থীর নির্বাচনী জামানত বাতিল হয়? নির্বাচন কমিশনের আইন ও বিধি অনুযায়ী, এর পেছনে রয়েছে নির্দিষ্ট কিছু কারণ।

ভোটের ন্যূনতম হার না পাওয়া মূল কারণ

বাংলাদেশের নির্বাচনী আইন অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী যদি সংশ্লিষ্ট আসনে প্রদত্ত মোট বৈধ ভোটের নির্ধারিত ন্যূনতম অংশ অর্জন করতে ব্যর্থ হন, তাহলে তার জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। বর্তমানে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই হার নির্ধারিত রয়েছে মোট প্রদত্ত ভোটের এক-অষ্টমাংশ বা ১২ দশমিক ৫ শতাংশ। অর্থাৎ, কোনো প্রার্থী এই পরিমাণ ভোট না পেলে তার জমা দেওয়া জামানত ফেরতযোগ্য থাকে না।

জামানত কী ও কেন নেওয়া হয়

নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় প্রার্থীকে একটি নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা জামানত হিসেবে জমা দিতে হয়। এর উদ্দেশ্য হলো অপ্রয়োজনীয় বা অনাগ্রহী প্রার্থিতা নিরুৎসাহিত করা এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় শৃঙ্খলা বজায় রাখা। নির্বাচন শেষে নির্ধারিত ভোটের সীমা পূরণ করতে পারলে প্রার্থী এই জামানত ফেরত পান।

জামানত বাতিল মানে প্রার্থিতা বাতিল নয়

নির্বাচনী জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়া মানে প্রার্থীর নির্বাচন বা প্রার্থিতা বাতিল হয়ে যাওয়া নয়। এটি কেবল একটি আর্থিক বিষয়। প্রার্থী বৈধভাবেই নির্বাচনে অংশ নেন এবং ফলাফলের ভিত্তিতে জামানত ফেরত বা বাজেয়াপ্তের সিদ্ধান্ত হয়।

সাম্প্রতিক নির্বাচনেও ব্যাপক জামানত বাজেয়াপ্ত

সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেখা গেছে, বহু আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের বড় অংশ প্রয়োজনীয় ভোট না পাওয়ায় জামানত হারিয়েছেন। নির্বাচন কমিশনের হিসাবে, বেশ কয়েকটি আসনে মোট প্রার্থীর অর্ধেকের বেশি জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে, যা ভোটের ব্যবধান ও নির্বাচনী বাস্তবতার প্রতিফলন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়ার বিধান নির্বাচনী ব্যবস্থার একটি স্বাভাবিক অংশ। এটি প্রার্থীদের জন্য এক ধরনের দায়িত্বশীলতা ও জনসমর্থনের ন্যূনতম মানদণ্ড নিশ্চিত করে।

সংবাদটি শেয়ার করুন