গুলশানের বাসভবন ‘ফিরোজা’ এখন এক গভীর নিস্তব্ধতায় নিমজ্জিত। প্রিয় নেত্রীর হাসি, কথাবার্তা আর উপস্থিতি আর নেই; শুধু আগের মতো সাজানো আসবাবপত্র, চারপাশের বাগান এবং প্রহরীদের পাহারা রয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার গুলশানের এ বাসভবনের সামনে যাওয়া মাত্রই চোখে পড়ে বেদনার ছাপ।
ঢাকা সেনানিবাসের শহীদ মইনুল রোডের বাড়ি, যেখানে একসময় শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও রাষ্ট্রপতি হিসেবে খালেদা জিয়ার সংসার ছিল, মৃত্যুর পর সেই বাড়ি ছিল তার একমাত্র ঠিকানা। কিন্তু ১৯৯১ সালের পর শেখ হাসিনা সরকারের সময় তাকে সেই বাসা থেকে উচ্ছেদ করা হয়। এরপর থেকেই গুলশানের ‘ফিরোজা’ হয়ে ওঠে তার স্থায়ী নিবাস।
২০১৮ সালে দুর্নীতি দমন কমিশনের মামলার রায় শুনে এই বাসা থেকে সরাসরি কারাগারে গিয়েছিলেন খালেদা জিয়া। পরে করোনা মহামারির সময় বিশেষ শর্তে হাসপাতাল থেকে মুক্তি পেয়ে তিনি ফিরোজায় ফিরে এসেছিলেন।
আজও ফিরোজার ফটকে প্রহরীরা পাহারা দিচ্ছেন, তবে সবার চোখে-মুখে দেখা যায় গভীর বিষণ্ণতা। একজন নিরাপত্তা কর্মী অশ্রুসজল চোখে বলেন, ‘ম্যাডাম সবসময় আমাদের খোঁজ নিতেন। আজ তিনি নেই, পুরো বাড়িটাই যেন শুন্যতায় ভরা।’
বিএনপি মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান বলেন, ‘ফিরোজার প্রতিটি কোণে বেগম জিয়ার স্মৃতি বোনা আছে। দীর্ঘ ৪০ বছরেরও বেশি সময় ধরে যারা তার সেবায় নিয়োজিত ছিলেন, তাদের আবেগ এখন ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। এই বাড়িতে তার জীবন্ত উপস্থিতি এখনও অনুভূত হয়।’
বিএনপি চেয়ারপারসনের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বাহিনী (সিএসএফ)-এর এক সদস্য বলেন, ‘দীর্ঘদিন তার নিরাপত্তা সংরক্ষণের দায়িত্বে ছিলাম। আজ মানুষটি নেই, পুরো বাড়ি শূন্য। এই নিস্তব্ধতা চোখে আর মনে একই সঙ্গে কষ্ট জাগায়। আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, তিনি ম্যাডামকে পরপারে শান্তি দান করুন।’
ফিরোজার পাশের ১৯৬ নম্বর বাড়িটি ১৯৮১ সালে জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর তার পরিবারের জন্য বরাদ্দ করা হয়। সম্প্রতি ওই বাড়ির দলিলপত্র খালেদা জিয়ার হাতে হস্তান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে সেই বাড়িতে অবস্থান করছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
গুলশান কূটনৈতিক জোন হওয়ায় সাধারণ মানুষের ভিড় সীমিত, তবে অনেক স্থানীয় বাসিন্দাকে এসে নীরবে শোক প্রকাশ করতে দেখা যায়। বাসিন্দা হাসানুজ্জামান খান বলেন, ‘ম্যাডাম নেই, এখন তারেক রহমান আমাদের ভরসার জায়গায় রয়েছেন। তাই এখানে এসে তার শোকের সঙ্গী হচ্ছি। এই শোক শুধু তার নয়, এটি আমাদের গণতন্ত্রপ্রিয় বাংলাদেশীদের শোক।’
গত মঙ্গলবার ভোরে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। বুধবার মানিক মিয়া এভিনিউতে জানাজা শেষে তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় জিয়া উদ্যানে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে সমাহিত করা হয়েছে।




