দেশের সাত জেলায় আজ শুক্রবার শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। গতকাল বৃহস্পতিবার এই সংখ্যা ১৬ জেলায় ছিল, যা তুলনায় আজ কমেছে। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আজ দেশের তাপমাত্রা খানিকটা বেড়ে যাওয়ায় শীত কিছুটা কম অনুভূত হতে পারে। তবে এই তাপমাত্রার উত্থান দীর্ঘস্থায়ী হবে না, কারণ আগামী রোববার থেকে তাপমাত্রা আবার কমতে শুরু করবে।
আজ দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে যশোরে, যেখানে তা ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আবহাওয়া অফিসের সংজ্ঞা অনুযায়ী, সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮.১ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে হলে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ, ৬.১ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ, ৪.১ থেকে ৬ ডিগ্রি হলে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ এবং ৪ ডিগ্রি বা তার নিচে অতি তীব্র শৈত্যপ্রবাহ হিসেবে গণ্য করা হয়।
আজ শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে গোপালগঞ্জ, যশোর, রাজশাহী, পাবনা, পঞ্চগড়, কুষ্টিয়া ও চুয়াডাঙ্গা জেলায়। এসব জেলার মধ্যে যশোরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রার কারণে জনজীবন অনেকটা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। শহরের জামরুলতলা মোড়ে দেখা যায়, মোটরসাইকেলে যাত্রী বহনকারীরা কষ্টে পড়েছেন।
সদর উপজেলার শেখহাটি এলাকার জাহিদ হাসান ২৫ বছর ধরে যাত্রী বহন করে সংসার চালান। টানা এক সপ্তাহের শৈত্যপ্রবাহের কারণে তাঁর দৈনিক রোজগার প্রায় অর্ধেক কমেছে। শুধু তিনি নন, মোড়ে কমপক্ষে ১০ জন মোটরসাইকেল চালক একই সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন।
রাজশাহীতে ভোর থেকে সূর্যের দেখা মিললেও সকাল ১০টা পর্যন্ত শীতের তাপমাত্রা কমেনি। নগরের বিভিন্ন এলাকায় মানুষ প্রয়োজনের তাগিদে বাইরে বের হলেও মোটা শীতের পোশাক পরে চলাচল করছেন। নগরের জাদুঘর মোড়ে রিকশাচালক রমজান আলী জানিয়েছেন, রোদ উঠলেও বাতাসের কারণে শীত কমতে পারছে না।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ শাহানাজ সুলতানা প্রথম আলোকে বলেছেন, শৈত্যপ্রবাহের বিস্তৃতি আজ কমেছে এবং আগামীকালও তা কিছুটা থাকতে পারে। তবে রোববার থেকে তাপমাত্রা আবার কমে শীত বাড়তে পারে।




