চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের প্রথম বর্ষ স্নাতক (সম্মান) শ্রেণির ভর্তি পরীক্ষা আজ শুক্রবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত ‘এ’ ইউনিটের পরীক্ষার মাধ্যমে শুরু হওয়া এই ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী। প্রতি আসনের বিপরীতে লড়াই করছেন প্রায় ৮০ জন ভর্তিচ্ছু।
আজ সকাল ১০টা থেকে পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রবেশ শুরু হয়। এ সময় কেন্দ্রে পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে আসা অভিভাবকদের বাইরে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী সকাল সাড়ে ১০টার মধ্যে পরীক্ষার্থীদের নিজ নিজ আসনে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে।
‘এ’ ইউনিটের আওতায় রয়েছে বিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান, ইঞ্জিনিয়ারিং এবং মেরিন সায়েন্সেস অ্যান্ড ফিশারিজ এই চারটি অনুষদ। এসব অনুষদে মোট সাধারণ আসন রয়েছে ১ হাজার ৯৩টি। এ ইউনিটে মোট আবেদনকারীর সংখ্যা ৮৭ হাজার ৬৯৬ জন।
ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে পরীক্ষার্থীদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রবেশপত্র প্রদর্শন করে কেন্দ্রে ঢুকতে হচ্ছে। বেলা ১১টার পর কাউকে পরীক্ষার হলে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। ভর্তি পরীক্ষার ৪৮ ঘণ্টা আগে থেকেই ভর্তির ওয়েবসাইটে লগইন করে সিট প্ল্যান দেখার সুযোগ দেওয়া হয়েছে, তবে এর আগে প্রবেশপত্র ডাউনলোড করা বাধ্যতামূলক।
পরীক্ষার দিন প্রত্যেক পরীক্ষার্থীকে ডাউনলোড করা প্রবেশপত্রের এক কপি এবং উচ্চমাধ্যমিক বা সমমান পরীক্ষার মূল রেজিস্ট্রেশন কার্ড সঙ্গে রাখতে হচ্ছে। ‘এ’ লেভেল পরীক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে Statement of Entry-এর মূল কপি সঙ্গে আনতে বলা হয়েছে।
পরীক্ষার হলে Fx-100 বা এর নিচের সাধারণ মানের ক্যালকুলেটর (মেমোরি অপশন ও সিম ছাড়া) ব্যবহার করা যাবে। তবে মোবাইল ফোন, স্মার্টওয়াচ, ব্লুটুথসহ যেকোনো ধরনের যোগাযোগ ডিভাইস সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। অন্যদিকে বি ইউনিট এবং বি-১, বি-২ ও ডি-১ উপ–ইউনিটের পরীক্ষায় ক্যালকুলেটর ব্যবহারও নিষিদ্ধ থাকবে।
ভর্তি পরীক্ষায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো গুজব বা অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। পাশাপাশি নিরাপত্তার স্বার্থে অভিভাবকদের জাতীয় পরিচয়পত্র বা ব্যক্তিগত পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এবার ‘এ’ ইউনিটে আবেদনের জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক (চতুর্থ বিষয়সহ) মিলিয়ে ন্যূনতম জিপিএ নির্ধারণ করা হয়েছে ৮। পাশাপাশি মাধ্যমিকে ন্যূনতম জিপিএ ৪ এবং উচ্চমাধ্যমিকে জিপিএ ৩ থাকতে হবে। গত বছরের তুলনায় এ বছর যোগ্যতার মান কিছুটা শিথিল করা হয়েছে।
সব ইউনিটে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে ১০০ নম্বরের বহুনির্বাচনী পদ্ধতিতে। প্রতিটি ভুল উত্তরের জন্য শূন্য দশমিক ২৫ নম্বর কাটা হবে। ডি-১ উপ–ইউনিট ছাড়া সব ইউনিটে পাস নম্বর ৪০, আর ডি-১ উপ–ইউনিটে পাস নম্বর ৩৫ নির্ধারণ করা হয়েছে।
‘এ’ ইউনিটের পরীক্ষায় ইংরেজি ২৫ নম্বর এবং পদার্থবিদ্যা, রসায়ন, গণিত ও জীববিজ্ঞান—এই চারটির মধ্যে যেকোনো তিনটি বিষয়ে ২৫ নম্বর করে প্রশ্ন থাকবে। অন্যান্য ইউনিট ও উপ–ইউনিটেও পৃথক বিষয়ভিত্তিক নম্বর ও পাসের শর্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।
ভর্তি পরীক্ষার সূচি অনুযায়ী ৩ জানুয়ারি ‘ডি’ ইউনিট, ৫ জানুয়ারি ডি-১, ৭ জানুয়ারি বি-১, ৮ জানুয়ারি বি-২, ৯ জানুয়ারি ‘সি’ ইউনিট এবং ১০ জানুয়ারি ‘বি’ ইউনিটের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। ধারাবাহিক এই সূচির মাধ্যমে শেষ হবে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এবারের ভর্তি পরীক্ষা পর্ব।




