ঢাকা | বৃহস্পতিবার
২৯শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৫ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রায়েরবাজারে বেওয়ারিশ হিসেবে দাফনকৃত আট জনের পরিচয় শনাক্ত

জুলাই–আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ হয়ে রায়েরবাজার কবরস্থানে বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা মরদেহগুলোর পরিচয় শনাক্তে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। কবরস্থান থেকে উত্তোলন করা মোট ১১৮টি মরদেহের মধ্যে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে এখন পর্যন্ত ৮ জন শহীদের পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, রায়েরবাজার কবরস্থানে সমাহিত মরদেহগুলো উত্তোলনের পর ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে আটজনকে সফলভাবে শনাক্ত করা গেছে এবং তাদের পরিবারকে বিষয়টি ইতোমধ্যে জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় শিগগিরই বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করবে বলেও জানান তিনি।

প্রেসসচিব জানান, শহীদদের পরিচয় শনাক্তের পুরো প্রক্রিয়াটি আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে পরিচালিত হচ্ছে। এ কাজে বসনিয়া যুদ্ধের সময় সেব্রেনিৎসা গণহত্যার পর মরদেহ শনাক্তে যারা কাজ করেছিলেন, সেই আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ দল বাংলাদেশের সংশ্লিষ্টদের প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। পাশাপাশি দেশীয় কয়েকজন বিশেষজ্ঞকেও ডিএনএ স্যাম্পলের মাধ্যমে নিখুঁত শনাক্তকরণে দক্ষ করে তোলা হয়েছে।

শফিকুল আলম আরও বলেন, সেব্রেনিৎসার ঘটনার পর যেভাবে অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও ধৈর্যের সঙ্গে মরদেহ শনাক্ত করা হয়েছিল, বাংলাদেশেও একই পদ্ধতি অনুসরণ করা হচ্ছে। এটি সময়সাপেক্ষ ও কঠিন হলেও সরকার প্রতিটি শহীদের পরিচয় নিশ্চিত করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।

উল্লেখ্য, জুলাই–আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে শত শত মানুষ শহীদ হলেও অনেকের পরিচয় নিশ্চিত না হওয়ায় তাদের বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা হয়। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর এসব শহীদের পরিচয় শনাক্তে কবর থেকে মরদেহ উত্তোলন ও ডিএনএ পরীক্ষার উদ্যোগ নেয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন