হিউম্যানিটি অ্যালায়েন্স এবং ন্যাশনাল উইল প্ল্যাটফর্মের উদ্যোগে এবং তুর্কিশ ইয়ুথ ফাউন্ডেশনের নেতৃত্বে চার শতাধিক সামাজিক সংগঠন এই সমাবেশের আয়োজন করে। ‘আমরা দমে যাব না, আমরা চুপ থাকব না, আমরা ফিলিস্তিনকে ভুলব না’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে হাড়কাঁপানো শীত উপেক্ষা করে হাজারো মানুষ সমবেত হন।
সমাবেশের আগে অংশগ্রহণকারীরা ইস্তাম্বুলের ঐতিহ্যবাহী আয়াসোফিয়া গ্র্যান্ড মস্ক, সুলতানাহমেত ও ফাতিহসহ বিভিন্ন বড় মসজিদে ফজরের নামাজ আদায় করেন। নামাজ শেষে তারা তুর্কি ও ফিলিস্তিনি পতাকা হাতে গালতা ব্রিজের দিকে পদযাত্রা শুরু করেন।
মিছিলে তুরস্কের বিভিন্ন মন্ত্রী, উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ অংশ নেন। বক্তারা গালতা ব্রিজকে ‘বিবেকের ট্রাব্যুনাল’ আখ্যা দিয়ে গাজায় চলমান গণহত্যার তীব্র নিন্দা জানান। সমাবেশে জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী মাহের জেইনসহ আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন শিল্পীরাও উপস্থিত থেকে ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন।
তুর্কি ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধি বেলাল এরদোয়ান বলেন, নতুন বছরটি ফিলিস্তিনের জন্য প্রার্থনার মধ্য দিয়ে শুরু করা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ২০২৬ সাল পুরো বিশ্ব ও মজলুম ফিলিস্তিনিদের জন্য কল্যাণ বয়ে আনবে। টার্কিশ ইয়ুথ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ইব্রাহিম বেসিনসি গাজার ভয়াবহ পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরে জানান, গত ২৭ মাসে হাজার হাজার টন বোমা ফেলা হয়েছে এবং লাখো মানুষ হতাহত হয়েছে। তিনি একটি জাতিকে মুছে ফেলার চেষ্টা রোধের জন্য আন্তর্জাতিক সচেতনতার আহ্বান জানান।
সমাবেশে সাংস্কৃতিক প্রতিরোধের অংশ হিসেবে ‘রুটস’ বা শিকড় নামক একটি শিল্পকর্ম প্রদর্শিত হয়। ধ্বংসস্তূপের মাঝখানে একটি জলপাই গাছ এবং ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা বাদ্যযন্ত্র ও বইয়ের মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের অদম্য মনোবল ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষা করার বার্তা ফুটিয়ে তোলা হয়। এছাড়া তুরস্কের প্রধান ক্রীড়া সংগঠনগুলোও সমাবেশে সংহতি প্রকাশ করে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলমান মানবিক সংকটে বিশ্ববাসীকে চুপ না থাকার আহ্বান জানানো হয় এই বিশাল গণজমায়েত থেকে।




