রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বাসভবনে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলার একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে মস্কো, যা আন্তর্জাতিক মহলে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, ইউক্রেন পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালিয়েছে, তবে রুশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তা সফলভাবে প্রতিহত করেছে।
রুশ মেজর জেনারেল আলেকজান্ডার রোমানেনকভ জানিয়েছেন, ইউক্রেনের সুমি ও চেরনিহিভ অঞ্চল থেকে মোট ৯১টি ড্রোন উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল। তাদের লক্ষ্য ছিল নভগোরোড অঞ্চলের লেক ভালদাইয়ে অবস্থিত পুতিনের বাসভবন। প্রকাশিত ফুটেজে দেখা গেছে, রুশ সেনারা একটি ধ্বংসপ্রাপ্ত ড্রোনের পাশে দাঁড়িয়ে আছেন, যাতে প্রায় ছয় কেজি বিস্ফোরক ছিল। মস্কো এটিকে পুতিনকে সরাসরি লক্ষ্য করে চালানো সুপরিকল্পিত হামলা হিসেবে বর্ণনা করেছে।
অন্যদিকে, ইউক্রেন হামলার দাবি অস্বীকার করেছে এবং এটিকে রাশিয়ার সাজানো নাটক বলেছে। ইউক্রেনীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রেই সিবিকা সামাজিক মাধ্যমে জানিয়েছেন, মস্কোর কাছে এ হামলার সপক্ষে কোনো বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ নেই। কিয়েভের দাবি, এই ঘটনা মূলত শান্তি আলোচনায় বাধা সৃষ্টি এবং যুদ্ধের তীব্রতা বাড়ানোর জন্য রাশিয়া তৈরি করেছে।
মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ-র প্রাথমিক মূল্যায়নেও বলা হয়েছে, পুতিন বা তার বাসভবনকে লক্ষ্য করে ইউক্রেন কোনো হামলার চেষ্টা করেনি। যুক্তরাষ্ট্রের মতে, ইউক্রেন ওই অঞ্চলে সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলার পরিকল্পনা করেছিল, কিন্তু পুতিনের বাসভবনের কাছে তা ছিল না।
ঘটনাটি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। নববর্ষের আগে তিনি উভয় পক্ষকে শান্তি বজায় রাখার এবং কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ মেটানোর আহ্বান জানিয়েছেন। মোদি বলেন, শত্রুতা শেষ করার একমাত্র পথ হলো কূটনীতি।
এই ঘটনায় ভারত ছাড়াও সংযুক্ত আরব আমিরাত ও পাকিস্তান উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তবে ইউক্রেন বলেছে, না ঘটে যাওয়া ঘটনার ওপর এই ধরনের প্রতিক্রিয়া হতাশাজনক। ভাইরাল ভিডিও ও হামলার দাবিকে কেন্দ্র করে বিশ্ব রাজনীতিতে উত্তেজনা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে।




