ঢাকা | শুক্রবার
৩০শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৬ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কোরআনের ওপর হাত রেখে নিউ ইয়র্কের নতুন মেয়র শপথ নিলেন মামদানি

যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম শহর নিউ ইয়র্কে ইতিহাস রচনা করে নতুন মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নিলেন জোহরান মামদানিবৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) নতুন বছরের প্রথম প্রহরে ম্যানহাটনের এক পরিত্যক্ত ঐতিহাসিক সাবওয়ে স্টেশনে পবিত্র কোরআনের ওপর হাত রেখে তিনি আনুষ্ঠানিক শপথ গ্রহণ করেনএই ঘটনায় জোহরান মামদানি হয়ে গেলেন নিউ ইয়র্ক সিটির প্রথম মুসলিম মেয়র এবং এক প্রজন্মের মধ্যে কনিষ্ঠতম ব্যক্তি হিসেবে মেয়রের দায়িত্বভার গ্রহণকারীনিউ ইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিটিয়া জেমস তাকে শপথবাক্য পাঠ করান।

শপথ অনুষ্ঠানের জন্য তিনি বেছে নিয়েছিলেন ১৯৪৫ সালে বন্ধ হওয়া ওল্ড সিটি হল সাবওয়ে স্টেশনটি, যা স্থাপত্য ও নান্দনিক দিক থেকে বিশেষভাবে পরিচিত। এই স্টেশনটি শহরের শ্রমজীবী মানুষের ঐতিহ্যের প্রতীক হিসেবে ট্রানজিশন টিমের মতে বেছে নেওয়া হয়েছে। মধ্যরাতের অনুষ্ঠানের পরে দুপুরে সিটি হলের সিঁড়িতে একটি বৃহৎ জনসমাবেশে তিনি পুনরায় শপথ নেবেন, যেখানে তার রাজনৈতিক আদর্শ ও মার্কিন সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স শপথবাক্য পাঠ করবেন এবং কংগ্রেসওম্যান আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্তেজ উদ্বোধনী বক্তব্য রাখবেন। এরপর ব্রডওয়ের ‘ক্যানিয়ন অব হিরোস’-এ গণসংবর্ধনা ও ব্লক পার্টি অনুষ্ঠিত হবে।

জোহরান মামদানি উগান্ডার কাম্পালায় জন্মগ্রহণ করেছেন এবং চলচ্চিত্র নির্মাতা মীরা নায়ার ও শিক্ষাবিদ মাহমুদ মামদানির সন্তান। তার পরিবার ১৯৯৯ সালে নিউ ইয়র্কে স্থায়ী হয় এবং ২০১৮ সালে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব লাভ করেন। নিজের রাজনৈতিক পরিচয় ডেমোক্র্যাটিক সমাজতন্ত্রী হিসেবে দেওয়া মামদানি নির্বাচনী প্রচারণায় জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো, বিনামূল্যে বাস পরিষেবা চালু করা, প্রায় ১০ লাখ পরিবারের জন্য ভাড়া বৃদ্ধি স্থগিত রাখা, সবার জন্য চাইল্ডকেয়ার নিশ্চিত করা এবং নগর-পরিচালিত গ্রোসারি স্টোর চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন

মেয়র হিসেবে তার সামনে রয়েছে বিশাল জনসমর্থন হলেও বড় ধরনের প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জও। শহরের আবর্জনা ব্যবস্থাপনা, তুষারপাত নিয়ন্ত্রণ ও সাবওয়ের দীর্ঘসূত্রতা দূর করার মতো সমস্যা মোকাবেলায় তাকে কঠোর পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হবে। তার প্রগতিশীল নীতিগুলো কতটা কার্যকর হবে, তা কেবল নিউ ইয়র্কবাসী নয়, পুরো যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক মহল গভীরভাবে নজর রাখছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো প্রভাবশালী নেতাদের সঙ্গে রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও, শহরের উন্নয়নে তিনি কতটা সমন্বয় করতে পারবেন, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন