১৮ বছর আগে এক-এগারো সরকারের সময়, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন দুর্নীতির একাধিক মামলায় কারাবন্দি ছিলেন, তখন বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া তাঁর মুক্তির আহ্বান জানিয়েছিলেন। তিনি গ্রেফতারির পদ্ধতি নিয়ে দুঃখ প্রকাশও করেছিলেন। ২০০৭ সালের ১৮ জুলাই বিবিসি বাংলায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, খালেদা জিয়া শেখ হাসিনাকে মুক্তি দিয়ে আইন অনুযায়ী মামলা পরিচালনার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বিশ্বাস ও রাজনৈতিক উত্তেজনা কমাতে এ ধরনের পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেছিলেন।
তবে পরবর্তী সময়ে ক্ষমতায় আসার পর শেখ হাসিনা খালেদা জিয়াকে দুর্নীতির সাজানো মামলায় কারাবন্দি করেন। তার জেলকালে চিকিৎসা সুবিধা না দেওয়া, ময়নুল রোডের বাসা থেকে অপমানজনকভাবে বের করা, অসুস্থতার বিষয় নিয়ে কটাক্ষ করা—এসব অভিযোগ সময়ের সঙ্গে সাধারণ মানুষের মধ্যেও আলোচিত হয়েছে।
এছাড়া খালেদা জিয়ার ছেলে ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দীর্ঘ ১৭ বছর লন্ডনে প্রবাস জীবন কাটাতে বাধ্য হন। দেশে তার আগমন ও বক্তব্য প্রচারও নিষিদ্ধ ছিল।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট শেখ মুজিবকে হত্যার পর বিদেশে থাকা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানাকে দেশে ফেরার সুযোগ দিয়েছিলেন সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তবে অভিযোগ আছে, পরবর্তীতে শেখ হাসিনা জিয়ার পরিবারের প্রতি হিংস্রতার কারণে রাজনৈতিক একক কর্তৃত্ব কায়েমের চেষ্টা করেছিলেন।
শেষ পর্যন্ত ক্ষমতায় স্থায়ী থাকতে না পারায়, শেখ হাসিনা ৫ আগস্ট দেশে থেকে পালিয়ে যান। তার আগে, খালেদা জিয়াকে দীর্ঘ সময় চিকিৎসা না দিয়ে কারাবন্দি রাখার কারণে তিনি মৃত্যুর দ্বারপ্রান্তে পৌঁছান। অবশেষে ৩০ আগস্ট রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যু ঘটে। বর্তমানে তাঁর মরদেহ বাসভবন ফিরোজায় রাখা হয়েছে এবং সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় জানাজার পর তাঁকে স্বামীর কবরের পাশে সমাহিত করা হবে।




