১. হামাস-ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি : দীর্ঘ আলোচনার পর ১৯ জানুয়ারি হামাস ও ইসরায়েল একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে সম্মত হয়, যা ১৯ জানুয়ারি থেকে ১৮ মার্চ পর্যন্ত কার্যকর থাকার কথা ছিল। কিন্তু এরপরও ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে বারবার গাজায় হামলা করতে থাকে। এই সময়ে দ্বিতীয় দফা যুদ্ধবিরতির আলোচনা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও তা শুরু হয়নি।
২. গাজা পুনর্গঠন পরিকল্পনা : ২১ ফেব্রুয়ারি রিয়াদে অনুষ্ঠিত এক সম্মেলনে আরব দেশগুলোর নেতারা গাজা পুনর্গঠনের পরিকল্পনা প্রকাশ করেন।
সৌদি আরবের যুবরাজ মুহাম্মদ বিন সালমান এই সম্মেলনের ডাক দেন। এতে উপসাগরীয় দেশগুলোর বাইরে মিসর ও জর্দান যোগদান করে। এই পরিকল্পনা ছিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিকল্পনার বিপরীতে দেওয়া একটি পরিকল্পনা।
৩. আরব লীগের জরুরি সভা : গাজা পুনর্গঠন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য মিসর আরব লীগের জরুরি সভার আহ্বান জানায়।
সভাটি ২৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও তা ৪ মার্চ অনুষ্ঠিত হয়। এই সভায় গাজার ভূমির মালিকানা ফিলিস্তিনিদের হাতে রেখে উন্নয়নের স্বল্প ও দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনা প্রকাশা করা হয়।৪. মার্চ ফর গাজা : গাজায় ইসরায়েলি গণহত্যা বন্ধ, যুদ্ধবিরতি ঘোষণা ও স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবি নিয়ে ঢাকায় ‘মার্চ ফর গাজা’ নামে বৃহৎ গণজমায়েত অনুষ্ঠিত হয়। এতে দল-মত-নির্বিশেষে দেশের আপামর জনসাধারণ অংশ নেয়।
সেদিন কয়েক লাখ মানুষ সমবেত হয়ে ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি জানিয়েছিল।
৫. গ্লোবাল মার্চ টু গাজা : গাজার যুদ্ধবিরতি এবং সেখানে অবরোধ ভেঙে মানবিক সাহায্য পৌঁছানোর দাবিতে গ্লোবাল মার্চ টু গাজা অনুষ্ঠিত হয়। সারা বিশ্বের মানবাধিকারকর্মীরা মিসরে সমবেত হন। ১৫ থেকে ১৯ জুন পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এই মার্চে মানবাধিকারকর্মীরা মিসরের কায়রো থেকে রাফা সীমান্তে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। এতে বিশ্বের ৮০ দেশের চার হাজার মানবাধিকারকর্মী অংশ নিয়েছিলেন।
২০২৫ সালে মধ্যপ্রাচ্য ও আন্তর্জাতিক ঘটনার সারসংক্ষেপ:
বছরের শুরুতে ১৯ জানুয়ারি হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি সম্পন্ন হয়, যা ১৮ মার্চ পর্যন্ত কার্যকর থাকার কথা থাকলেও ইসরায়েল বারবার গাজায় হামলা চালায়। যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় দফার আলোচনা শুরু না হলেও গাজা পুনর্গঠন নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্যোগ শুরু হয়। ২১ ফেব্রুয়ারি রিয়াদে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে সৌদি যুবরাজ মুহাম্মদ বিন সালমানের আহ্বানে আরব দেশ, মিসর ও জর্ডানের অংশগ্রহণে গাজার পুনর্গঠন পরিকল্পনা প্রকাশ করা হয়। এই উদ্যোগটি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিকল্পনার বিকল্প হিসেবে আনা হয়।
পরবর্তী দিনে, মিসর আরব লীগের জরুরি সভার আহ্বান জানায়, যা ৪ মার্চ অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ফিলিস্তিনিদের গাজার ভূমির মালিকানা বজায় রেখে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা অনুমোদন করা হয়। একই সময়ে, ঢাকায় ‘মার্চ ফর গাজা’ অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে কয়েক লাখ মানুষ অংশ নিয়ে ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি জানায়। এছাড়া ১৫ থেকে ১৯ জুন পর্যন্ত ‘গ্লোবাল মার্চ টু গাজা’ অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ৮০ দেশের চার হাজার মানবাধিকারকর্মী অংশগ্রহণ করে। গাজার অবরোধ ভাঙার উদ্দেশ্যে ১ জুন ও ৩১ আগস্ট দুটি নৌযাত্রাও পরিচালিত হয়।
দক্ষিণ এশিয়ায় ৭ মে ভারতের ‘অপারেশন সিন্দু’ পাকিস্তানে চালানো হয়। পাল্টা আক্রমণ হিসেবে পাকিস্তান ‘অপারেশন বুনয়ানুম মারসুস’ পরিচালনা করে। এই সংঘাতে উভয় দেশই ব্যাপক আর্থিক ও সামরিক ক্ষতির মুখোমুখি হয়।
মধ্যপ্রাচ্যে, ১৩ জুন ইসরায়েল ইরানে বিমান হামলা চালায়, এতে ইরানের কয়েকজন শীর্ষ সামরিক কমান্ডার নিহত হন। পাল্টা আক্রমণে ইরানও ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়, এবং ২১ জুন আমেরিকা ইরানের তিনটি পরমাণু স্থাপনায় হামলা চালায়। ৯ সেপ্টেম্বর ইসরায়েল কাতারের রাজধানী দোহায় হামাসের শীর্ষ নেতাদের লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালায়। এই হামলার পর ইসরায়েল পাকিস্তানের সঙ্গে কৌশলগত সামরিক চুক্তি স্বাক্ষর করে।
উল্লেখযোগ্য সামাজিক ও ক্রীড়া ঘটনা হিসেবে, ৪ নভেম্বর নিউইয়র্ক সিটির প্রথম মুসলিম মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হন জোহরান মামদানি। এছাড়া ৭ থেকে ২১ নভেম্বর সৌদি আরবে ইসলামিক সলিডারিটি গেমস অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ৫৭টি মুসলিম দেশের প্রতিনিধি অংশ নেয়।
বছরের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হলো: জুনে পাকিস্তানে প্রাণঘাতী বন্যা, অক্টোবরের গাজায় দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধবিরতি, অক্টোবর মাসে মক্কায় স্বর্ণের বিপুল মজুদসহ খনি আবিষ্কার, এবং নভেম্বর মাসে উপসাগরীয় দেশগুলো যৌথভাবে এআই শিল্প গড়ার ঘোষণা। ডিসেম্বর মাসে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত হয় ‘ওয়ার্ল্ড কোরআন কনভেনশন’।




