বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক যুগান্তকারী অধ্যায়ের অবসান ঘটিয়ে চিরবিদায় নিয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। তার মরদেহ জাতীয় মর্যাদায় শেষ শ্রদ্ধা জানানোর উদ্দেশ্যে রাজধানীর গুলশান এলাকা থেকে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজার দিকে নেওয়া হচ্ছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে।
বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) সকাল ১১টা ৫ মিনিটে গুলশান অ্যাভিনিউয়ের ১৯৬ নম্বর বাসা থেকে খালেদা জিয়ার মরদেহবাহী ফ্রিজার ভ্যানটি যাত্রা শুরু করে। জাতীয় পতাকায় মোড়ানো মরদেহটি বহনকারী ভ্যানটি গুলশান-২, কামাল আতাতুর্ক অ্যাভিনিউ, এয়ারপোর্ট রোড, মহাখালী ফ্লাইওভার, জাহাঙ্গীর গেট, বিজয় সরণি ও উড়োজাহাজ ক্রসিং অতিক্রম করে জাতীয় সংসদ ভবনের ৬ নম্বর গেট দিয়ে দক্ষিণ প্লাজায় প্রবেশ করার কথা রয়েছে।
এর আগে সকাল ৮টা ৫৪ মিনিটে রাজধানীর এভার কেয়ার হাসপাতাল থেকে মরদেহ গুলশানে আনা হয়। প্রথমে তার দীর্ঘদিনের বাসভবন ‘ফিরোজা’য় নেওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও পরে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে মরদেহটি তারেক রহমানের গুলশান অ্যাভিনিউয়ের বাসায় নেওয়া হয়। সেখানে স্বজন, বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ ও দলীয় নেতাকর্মীরা শেষবারের মতো তাকে শ্রদ্ধা জানান।
বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা আজ বুধবার বাদ জোহর রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা পরিচালনা করবেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি আবদুল মালেক। জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হবে তার স্বামী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে।
বিএনপির চেয়ারপারসনের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ভারত, পাকিস্তানসহ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা আজ ঢাকায় পৌঁছাচ্ছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠান নির্বিঘ্ন করতে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মানিক মিয়া অ্যাভিনিউসহ আশপাশের এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে ২৭ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্য।
দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোর ৬টায় রাজধানীর এভার কেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। তার মৃত্যুতে দেশে-বিদেশে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।




