জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগের কয়েক মাস প্রশাসনে গুরুত্বপূর্ণ রদবদলের প্রস্তুতি চলছে। ছয়জনের বেশি সচিব অবসরে যাচ্ছেন, যার ফলে তাদের স্থলে নতুন সচিব নিয়োগের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হচ্ছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যেই কয়েকজন কর্মকর্তার চাকরিজীবনের মূল্যায়ন শুরু করেছে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মোস্তাফিজুর রহমান আগামীকাল বুধবার অবসরোত্তর ছুটিতে যাচ্ছেন। তাকে অবসর গ্রহণের সুবিধার্থে গত সোমবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) হিসেবে পদায়ন করা হয়।
জানুয়ারিতে আরও অন্তত তিনজন সচিব অবসরোত্তর ছুটিতে যাচ্ছেন। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোকাব্বির হোসেনের অবসর-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন গত রোববার জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। তার অবসর গ্রহণের নির্ধারিত তারিখ ১ জানুয়ারি।
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুল খালেক ২ জানুয়ারি এবং বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস প্রশাসন একাডেমির রেক্টর (সচিব) মোহাম্মদ ওমর ফারুক ৩ জানুয়ারি অবসর নেবেন।
ফেব্রুয়ারিতে আরও দুইজন কর্মকর্তার অবসর নেওয়ার তারিখ নির্ধারিত হয়েছে। ২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালক তসলিমা কানিজ নাহিদা এবং পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য (সচিব) ড. মোস্তাফিজুর রহমান অবসর গ্রহণ করবেন।
সচিবদের মধ্যে কেউ কেউ চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে থাকার চেষ্টা করলেও, সফল হওয়া কঠিন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। তবে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব পুনরায় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেয়েছেন, যার মেয়াদ আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।
নতুন সচিব নিয়োগে প্রশাসনের ১৫ ও ১৭ ব্যাচের কর্মকর্তাদের প্রার্থীতালিকা প্রস্তুত হচ্ছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়সহ পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের প্রধান সচিব নিয়োগের বিষয়ে আলোচনায় রয়েছেন।
তথ্য মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিবও পদোন্নতির তালিকায় থাকতে পারেন বলে জানা গেছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, সচিব পদোন্নতি সম্পূর্ণভাবে প্রধান উপদেষ্টার এখতিয়ার। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় উপযুক্ত কর্মকর্তাদের তথ্য সরকার প্রধানের কাছে উপস্থাপন করে সিদ্ধান্ত নেয়।
নিয়ম অনুযায়ী, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে পরিবর্তনের জন্য নির্বাচন কমিশনের সম্মতি প্রয়োজন। তবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক সিনিয়র কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সাধারণ নিয়মে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রেই ইসির অনুমোদন লাগে, নিয়মিত পরিবর্তনের জন্য নয়।




