চলমান শীতের তীব্রতা এবং ঘন কুয়াশার কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে জনজীবন অচল হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে নিম্নআয়ের মানুষ, শিশু ও বয়স্করা এখন সবচেয়ে বেশি কষ্টে ভুগছেন। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এই পরিস্থিতি আরও কয়েক দিন অব্যাহত থাকতে পারে। বিভিন্ন জেলা থেকে পাওয়া প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ঘন কুয়াশা এবং শীতল হাওয়ার কারণে দৈনন্দিন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত যানবাহন চলাচলে বিশেষ সমস্যা দেখা দিচ্ছে।
আবহাওয়াবিদ আবুল কালাম মল্লিক জানিয়েছেন, দেশের অভ্যন্তরের জলাধার, বিল ও হাওর থেকে উৎপন্ন কুয়াশা, পাহাড়ি এলাকায় সৃষ্ট কুয়াশা এবং ভারতের উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে প্রবেশ করা বায়ু মিলিয়ে দেশের বায়ুমণ্ডলে কুয়াশার ঘনত্ব বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে মধ্যরাত থেকে দুপুর পর্যন্ত সূর্যের আলো বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, যার কারণে ঠান্ডার তীব্রতা বাড়ছে।
সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ তাপমাত্রা
নিকলী (কিশোরগঞ্জ) হাওর অধ্যুষিত এলাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আবহাওয়া অধিদপ্তরের মতে, এটি মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। অন্যদিকে টেকনাফে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ২৮.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। নিকলী আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, জেলার ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং চলতি মাসজুড়ে শীতের প্রভাব থাকতে পারে।
বরিশালে লঞ্চ চলাচল বন্ধ
ঘন কুয়াশার কারণে ঢাকা-বরিশালসহ দেশের নদীপথে নৌযান চলাচল দ্বিতীয় দিনের মতো বন্ধ রয়েছে। বরিশাল নৌ-বন্দর থেকে কোনো লঞ্চ ঢাকার উদ্দেশ্যে ছাড়েনি। দিনের বেলায় অভ্যন্তরীণ রুটের লঞ্চ চলাচল করলেও সন্ধ্যার পর সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ থাকবে, জানিয়েছে বিআইডব্লিউটিএর বরিশাল নদীবন্দর নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান।
চুয়াডাঙ্গায় শীতের তীব্রতা কমছে না
চুয়াডাঙ্গায় শীতের তীব্রতা আরও বেড়েছে। কুয়াশার কারণে দিনের আলোও প্রায় দেখা যাচ্ছে না। গতকাল সকাল ৯টায় তাপমাত্রা নেমে ১২.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে। বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯১ শতাংশ। দিনের বেলায় সড়কে যানবাহন হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করছে। খেটে খাওয়া অসহায় মানুষ শীতে সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাচ্ছেন। চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জামিনুর রহমান জানিয়েছেন, জেলাটিসহ আশপাশের এলাকায় আরও কয়েক দিন শীতের তীব্রতা থাকতে পারে এবং নতুন শৈত্যপ্রবাহও দেখা দিতে পারে।




