বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকালে গভীর শোক ও বেদনা প্রকাশ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (ডাকসু)।
আজ এক শোকবার্তায় ডাকসু জানায়, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাতের পর দেশের এক সংকটময় সময়ে বেগম খালেদা জিয়া দৃঢ়তা ও সাহস নিয়ে রাজনৈতিক নেতৃত্বের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। স্বৈরাচারী দমন-পীড়ন ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার মুখেও তিনি গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রধান মুখ এবং জনগণের প্রত্যাশার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠেন।
শোকবার্তায় আরও বলা হয়, আলেম-ওলামা ও আধিপত্যবাদবিরোধী দেশপ্রেমিক শক্তির বিরুদ্ধে অপবাদ, ষড়যন্ত্র ও বিভাজনের রাজনীতি যখন চরমে পৌঁছেছিল, তখন বেগম খালেদা জিয়া সত্য, ন্যায় ও জাতীয় সার্বভৌমত্বের পক্ষে অবিচল অবস্থান নিয়েছিলেন। তিনি কখনো বিদেশি চাপ বা তোষামোদে নতি স্বীকার করেননি; বরং আত্মমর্যাদাশীল রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশকে দাঁড় করানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করেছিলেন।
ডাকসু উল্লেখ করে, স্বৈরতন্ত্র, ভিনদেশি আধিপত্যবাদ ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে গড়ে ওঠা গণআন্দোলন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অনন্য অধ্যায় হয়ে থাকবে। ২০১৩ সালে শাহবাগের ইসলামবিদ্বেষী উন্মাদনার বিপরীতে তাঁর অবস্থান এবং শাপলা চত্বরে শান্তিপূর্ণ জনতার পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান ছিল সময়ের সাহসী রাজনৈতিক বার্তা। কারাবন্দী আলেম ও আধিপত্যবাদবিরোধী রাজনৈতিক নেতাদের মুক্তির দাবিতে তাঁর আপোষহীন ভূমিকার কথাও শোকবার্তায় স্মরণ করা হয়।
শোকবার্তায় বলা হয়, জাতীয় মুক্তির সংগ্রামের প্রাক্কালে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে বেগম খালেদা জিয়াকে বাড়িছাড়া করা হয়। দীর্ঘ কারাবাস ও চিকিৎসাবঞ্চনাসহ নানা নিপীড়ন তিনি অটল বিশ্বাস ও দৃঢ় মনোবল নিয়ে সহ্য করেছেন। তাঁর ইন্তেকাল দেশের রাজনৈতিক জীবনে এক গভীর শূন্যতা সৃষ্টি করেছে বলে মন্তব্য করে ডাকসু।
ডাকসু আরও জানায়, রাজনৈতিক সহাবস্থান, নাগরিক অধিকার এবং জাতীয় সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে বেগম খালেদা জিয়ার অবদান ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। শোকবার্তার শেষে ডাকসু বেগম খালেদা জিয়ার রূহের মাগফিরাত কামনা করে তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবার, সহযোদ্ধা ও দেশবাসীর প্রতি গভীর সমবেদনা জানায়।




