ঢাকা | বৃহস্পতিবার
২৯শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৫ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

এবার হাদির হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবি অস্বীকার পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ

সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি গুজব ছড়িয়ে পড়েছে যে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহিদ শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডে জড়িত কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে এই দাবি পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ স্পষ্টভাবে অস্বীকার করেছে।

পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) সোমবার এক্সে দেওয়া পোস্টে জানায়, “আমরা লক্ষ্য করেছি কিছু পোস্টে বলা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের এসটিএফ সাম্প্রতিক ঘটনায় প্রতিবেশী দেশের নাগরিকদের আটক করেছে। এটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। দয়া করে গুজব ছড়ানো থেকে বিরত থাকুন।”

এর আগে, বাংলাদেশে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীরা দাবি করেছিলেন যে ফয়সাল করিম মাসুদ ও আলমগীর শেখকে সহায়তার অভিযোগে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের এসটিএফ ২৮ ডিসেম্বর ৫ জন বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করেছে। তবে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ তা সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে প্রতিক্রিয়া দিয়েছে।

শহিদ শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত দুই অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ ও আলমগীর শেখ ময়মনসিংহ জেলার হালুয়াঘাট সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে পালিয়ে মেঘালয় রাজ্যে অবস্থান করছে, এমন দাবিও বাংলাদেশ পুলিশ করেছে। কিন্তু মেঘালয় পুলিশ এবং বিএসএফ তা নাকচ করেছে।

মেঘালয় পুলিশের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, “বাংলাদেশ পুলিশের সঙ্গে আমাদের কোনো আনুষ্ঠানিক বা অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগ হয়নি। কাউকে গারো পাহাড় এলাকায় শনাক্ত বা গ্রেপ্তার করা হয়নি। এই ধরনের আখ্যান কোনো গোয়েন্দা তথ্য বা প্রমাণের ওপর ভিত্তি করে নয়।”

ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার এস এন মো. নজরুল ইসলাম সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছিলেন, হত্যাকাণ্ডের দিনই ফয়সাল ও আলমগীরকে শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাদের গ্রেপ্তারের জন্য বিভিন্ন টিম কাজ করছে। হত্যাকারীরা ঢাকা থেকে মানিকগঞ্জ ও ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট পর্যন্ত সিএনজি এবং প্রাইভেটকারে পালিয়েছে।

তিনি আরও বলেছিলেন, হত্যাকারীদের হালুয়াঘাট সীমান্ত পার হওয়ার পর কয়েকজন ব্যক্তির মাধ্যমে মেঘালয় রাজ্যে হস্তান্তর করা হয়। তবে মেঘালয় পুলিশ জানিয়েছে, এমন হস্তান্তর বা সীমান্ত পারাপারের বিষয়ে কোনো কার্যকর প্রমাণ নেই।

মেঘালয় পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, “পুর্তি বা সামীর মতো ব্যক্তিদের শনাক্ত, খোঁজা বা গ্রেপ্তার করা হয়নি। ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কোনো সমন্বয় ছাড়াই এই আখ্যান তৈরি করা হয়েছে।”

পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ এবং মেঘালয় পুলিশ উভয়ই স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো এসব দাবি ভিত্তিহীন এবং গুজব ছাড়া কিছু নয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন