দীর্ঘ সময় নীরব থাকার পর অবশেষে ভারতীয় সামরিক অভিযান ‘অপারেশন সিঁদুরে’ সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করল পাকিস্তান। দেশটির পররাষ্ট্র ও উপপ্রধানমন্ত্রী ইসহাক দার জানিয়েছেন, ওই অভিযানে পাকিস্তানের নূর খান বিমান ঘাঁটি গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
রোববার ইসলামাবাদে এক সংবাদ সম্মেলনে ইসহাক দার বলেন, মাত্র ৩৬ ঘণ্টার ব্যবধানে ভারত নূর খান বিমান ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ৮০টি বিস্ফোরকবাহী ড্রোন নিক্ষেপ করে। তবে পাকিস্তানের এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমের মাধ্যমে এসব ড্রোনের মধ্যে ৭৯টিই প্রতিহত করা সম্ভব হয়, একটি ড্রোন আটকানো যায়নি।
তার ভাষায়, নূর খান বিমান ঘাঁটিতে হামলা চালানো ভারতের কৌশলগত ভুল ছিল। এই হামলার পরই পাকিস্তান পাল্টা সামরিক অভিযানে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়, যার নাম দেওয়া হয় ‘অপারেশন বুনিয়ান উম মারসুস’।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এর আগে অপারেশন সিঁদুরের ফলে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে পাকিস্তান সরকারের কোনো শীর্ষ নেতা প্রকাশ্যে মন্তব্য করেননি। ইসহাক দারের বক্তব্যে স্পষ্ট, এ বিষয়ে আগের অবস্থান থেকে কিছুটা সরে এসেছে ইসলামাবাদ।
রাজধানী ইসলামাবাদ থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত নূর খান বিমান ঘাঁটিকে পাকিস্তান বিমান বাহিনীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটিগুলোর একটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ইসহাক দার আরও বলেন, পাকিস্তানের পক্ষ থেকে ভারতকে যুদ্ধবিরতির জন্য কোনো আহ্বান জানানো হয়নি। বরং ১০ মে ভোরে নূর খান বিমান ঘাঁটিতে হামলার পর সকাল ৮টা ১৭ মিনিটে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও তাকে ফোন করেন।
দার জানান, ওই ফোনালাপে মার্কো রুবিও বলেন, ভারত যুদ্ধবিরতিতে প্রস্তুত এবং জানতে চায় পাকিস্তানও এতে সম্মত কি না। জবাবে তিনি স্পষ্ট করে জানান, পাকিস্তানের যুদ্ধ জড়ানোর কোনো ইচ্ছা নেই।




