জয়-পরাজয়ের দোলাচলে দুলছিল ম্যাচের ভাগ্য। শেষ বলে প্রয়োজন ছিল ১ রান, হাতে মাত্র ১ উইকেট। গ্যালারি ভর্তি হাজার হাজার দর্শকের নিস্তব্ধতা ভেঙে শেষ বলে জয় ছিনিয়ে নিল সিলেট টাইটান্স। নোয়াখালী এক্সপ্রেসের ছুঁড়ে দেওয়া ১৪৪ রানের চ্যালেঞ্জ পাড়ি দিতে গিয়ে ৯ উইকেট হারালেও ইনিংসের একেবারে শেষ বলে কাঙ্ক্ষিত বন্দরে পৌঁছায় স্বাগতিকরা।
খালেদের তোপ ও অঙ্কনের প্রতিরোধ
চায়ের দেশে টস জিতে শুরুতে ফিল্ডিংয়ের সাহসী সিদ্ধান্ত নেন সিলেট অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। ঘরের মাঠের উইকেটে শুরুতেই গতির ঝড় তোলেন পেসার খালেদ আহমেদ। তাঁর বিধ্বংসী বোলিং স্পেলে (৪/২৩) মাত্র ৯ রানেই ৩ উইকেট হারিয়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় নোয়াখালীর টপ অর্ডার। তবে বিপর্যয় সামলে একা লড়াই চালিয়ে যান মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন। তাঁর হার না মানা ৫১ বলে ৬১* রান এবং জাকের আলীর লড়াকু ২৯ রানের ওপর ভর করে ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৪৩ রানের পুঁজি পায় নোয়াখালী এক্সপ্রেস।
পারভেজ ইমনের ব্যাটে লড়াই ও শেষ ওভারের মহানাটক
জবাবে ব্যাট করতে নেমে শূন্য রানেই ওপেনার সাইম আইয়ুবকে হারিয়ে বিপাকে পড়ে সিলেট। তবে খাদের কিনারা থেকে দলকে টেনে তোলেন পারভেজ হোসেন ইমন। ৪১ বলে ৬০ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে জয়ের ভিত গড়ে দেন তিনি। অধিনায়ক মিরাজ ৩৩ রান করে পথ দেখালেও শেষ দিকে দ্রুত উইকেট পতনে ম্যাচটি নাটকীয় মোড় নেয়।
জয়ের জন্য শেষ ওভারে সিলেটের লক্ষ্য ছিল ১১ রান। সাব্বির হোসেনের করা ওভারের প্রথম দুই বল ডট হলে শঙ্কা জাগে সিলেটে। তবে তৃতীয় বলটি ‘নো’ হতেই বদলে যায় দৃশ্যপট। পরের দুই বলে ছক্কা ও চারে ম্যাচ হাতের নাগালে নিয়ে আসেন ব্যাটাররা। পঞ্চম বলে রান আউট হলে ম্যাচে আবারও টাই হওয়ার উপক্রম হয়, কিন্তু শেষ বলে হাড়কাঁপানো স্নায়ুচাপ সামলে ১ রান নিয়ে ১ উইকেটের অবিস্মরণীয় জয় নিশ্চিত করে সিলেট টাইটান্স।
সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড
| দল | রান/উইকেট | ওভার | সেরা পারফর্মার |
| নোয়াখালী এক্সপ্রেস | ১৪৩/৭ | ২০.০ | অঙ্কন ৬১*, জাকের ২৯; খালেদ ৪/২৩ |
| সিলেট টাইটান্স | ১৪৪/৯ | ২০.০ | পারভেজ ইমন ৬০, মিরাজ ৩৩; রানা ৪/৩৪ |




