খুলনায় এনসিপির সহযোগী সংগঠন জাতীয় শ্রমিক শক্তির এক নেতার ওপর গুলির ঘটনায় মাদক ব্যবসা ও অর্থ ভাগাভাগি সংক্রান্ত বিরোধকে মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে র্যাব। ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে এ পর্যন্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
র্যাব-৬ জানায়, শুক্রবার রাতে নগরীর বসুপাড়া এলাকা থেকে শীর্ষ সন্ত্রাসী শামীম শিকদার ওরফে ডিকে শামীম ওরফে ঢাকাইয়া শামীম এবং মাহাদিনকে আটক করা হয়। এর আগে একই মামলায় সন্দেহভাজন মো. আরিফ এবং এনসিপির যুব সংগঠন জাতীয় যুবশক্তির খুলনা জেলার যুগ্ম সদস্যসচিব তানিমা তন্বীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
শনিবার বিকেলে খুলনা র্যাব-৬ সদরদপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে র্যাব-৬-এর উপ-অধিনায়ক মেজর মো. নাজমুল ইসলাম বলেন, ঘটনার পরপরই একটি বিশেষ দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আলামত সংগ্রহ করে। সিসিটিভি ফুটেজ, ভিডিও এবং বিভিন্ন সংস্থার তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে কয়েকজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করা হয় এবং তাদের ওপর গোয়েন্দা নজরদারি শুরু করা হয়।
তিনি জানান, এর ধারাবাহিকতায় ২৫ ডিসেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে মো. আরিফকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং পরবর্তীতে তাকে ডিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়। এরপর শুক্রবার রাতে অভিযান চালিয়ে শামীম শিকদার ও মাহাদিনকে আটক করা হয়।
র্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শামীম শিকদার স্বীকার করেছে যে, সে নিজেই মোতালেব শিকদারের মাথায় গুলি চালিয়েছিল। শামীমের ভাষ্য অনুযায়ী, তানিয়া তন্বীর বাসায় দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা ও অসামাজিক কার্যকলাপ চলছিল এবং সেখান থেকেই মাদক সরবরাহ করা হতো।
মেজর নাজমুল ইসলাম আরও জানান, ঘটনার দিন সকাল ৭টার দিকে শামীম ও তার চার-পাঁচজন সহযোগী সেখানে উপস্থিত হয়। ওই সময় ফ্ল্যাটে তান্বী, মোতালেব শিকদার, আরিফ, ইফতি, তানভীর (তন্বীর স্বামী), ইমরান (তন্বীর বন্ধু) এবং ইফতির এক আত্মীয় উপস্থিত ছিলেন। মাদক উদ্ধারে ব্যর্থ হয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে শামীম তার কাছে থাকা আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে মোতালেবকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়।
গুলিটি মাথায় বিদ্ধ না হওয়ায় মোতালেব শিকদার প্রাণে বেঁচে যান। র্যাব জানায়, শামীম শিকদার সোনাডাঙ্গা এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী এবং তার বিরুদ্ধে দস্যুতা, মাদক ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে একাধিক মামলা রয়েছে।
র্যাবের দাবি, পুরো ঘটনাটি খুলনা মহানগরীর সোনাডাঙ্গা এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চলমান মাদক ব্যবসা ও মাদকের টাকা ভাগাভাগি সংক্রান্ত বিরোধের জেরেই সংঘটিত হয়েছে। বাকি অভিযুক্তদেরও দ্রুত আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।
এদিকে, মামলাটি ডিবিতে হস্তান্তরের পর তদন্তে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডিবির ওসি তৈয়মুর ইসলাম। তিনি জানান, ঘটনার সময় ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারে জোরালো অভিযান চলছে এবং খুব শিগগিরই আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উদঘাটনের সম্ভাবনা রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২২ ডিসেম্বর খুলনার সোনাডাঙ্গা এলাকার মজিদ স্মরণী রোডের মুক্তা হাউজের একটি ফ্ল্যাটে জাতীয় শ্রমিক শক্তির খুলনা বিভাগীয় কমিটির আহ্বায়ক মো. মোতালেব শিকদারের ওপর গুলি চালানো হয়। পরদিন তার স্ত্রী ফাহিমা আক্তার বাদী হয়ে সোনাডাঙ্গা মডেল থানায় হত্যা চেষ্টা মামলা দায়ের করেন।




