গাজায় যুদ্ধবিরতি ও ভবিষ্যৎ শান্তি প্রক্রিয়া নিয়ে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টাদের মধ্যে দূরত্ব দ্রুত বাড়ছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, ট্রাম্পের শীর্ষ সহযোগীরা নেতানিয়াহুর ভূমিকা নিয়ে ক্রমেই অসন্তুষ্ট হয়ে উঠছেন।
অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্পের অভ্যন্তরীণ উপদেষ্টা মহলে থাকা ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, জ্যারেড কুশনার, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং হোয়াইট হাউস চিফ অব স্টাফ সুজি ওয়াইলস—সবারই ধারণা, নেতানিয়াহু ইচ্ছাকৃতভাবে গাজায় যুদ্ধবিরতির বাস্তবায়ন বিলম্বিত করছেন এবং শান্তিচুক্তিকে দুর্বল করার কৌশল নিচ্ছেন।
তবে ইসরাইলের এক কর্মকর্তা দাবি করেছেন, এই বিষয়ে মার্কো রুবিও তুলনামূলকভাবে নেতানিয়াহুর অবস্থানের কাছাকাছি থাকলেও উইটকফ ও কুশনার শান্তি পরিকল্পনায় আরও নমনীয় ও ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করছেন।
হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা অ্যাক্সিওসকে জানিয়েছেন, ট্রাম্পের মূল উপদেষ্টা দল কার্যত নেতানিয়াহুর ওপর আস্থা হারিয়েছে। যদিও ট্রাম্প নিজে এখনো শান্তিচুক্তির অগ্রগতি দ্রুত করতে চান এবং এই পর্যায়ে নেতানিয়াহুর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সমর্থক হিসেবে তিনিই টিকে আছেন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, গাজা নিরস্ত্রীকরণসহ বহুস্তরবিশিষ্ট শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে উইটকফ ও কুশনার যে কাঠামো প্রস্তাব করেছেন, তা নিয়ে নেতানিয়াহু প্রকাশ্য সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। এই মতপার্থক্যের কথা জানতেন বলেই আগামী সোমবার মার-আ-লাগোতে নির্ধারিত বৈঠকে তিনি সরাসরি ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলে নিজের তুলনামূলক কট্টর অবস্থানের পক্ষে তাকে রাজি করানোর চেষ্টা করবেন বলে এক জ্যেষ্ঠ ইসরাইলি কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
চুক্তির প্রথম ধাপ, যা গত ১০ অক্টোবর কার্যকর হয়, সেখানে ইসরাইলি জিম্মিদের মুক্তির বিনিময়ে ফিলিস্তিনি বন্দিদের মুক্তির বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে যুদ্ধবিরতি কার্যকর রাখার প্রতিশ্রুতি পুরোপুরি মানা হয়নি। যুদ্ধবিরতির পরও ইসরাইলি বাহিনীর হামলায় অন্তত ৪১১ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ হাজার ১১৮ জন আহত হয়েছেন।
চুক্তির দ্বিতীয় ধাপে গাজা শাসনের জন্য একটি অস্থায়ী টেকনোক্র্যাটিক কমিটি গঠন, পুনর্গঠন কার্যক্রম শুরু, শান্তি কাউন্সিল প্রতিষ্ঠা, আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েন, আরও ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার এবং হামাসের নিরস্ত্রীকরণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
জাতিসংঘের হিসাবে, চলমান সংঘাতে বিধ্বস্ত গাজা পুনর্গঠনে প্রয়োজন হবে প্রায় ৭০ বিলিয়ন ডলার। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধে এখন পর্যন্ত প্রায় ৭১ হাজার ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন, যা এই সংকটকে আরও গভীর ও জটিল করে তুলেছে।




