ঢাকা | শনিবার
৩১শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৭ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ভোটের আগে শেয়ারবাজারে ইতিবাচক সুর

ধারাবাহিক দরপতন, দীর্ঘস্থায়ী মন্দাভাব ও বিনিয়োগকারীদের হতাশার আবহ কাটিয়ে দেশের শেয়ারবাজার আবারও ধীরে ধীরে ইতিবাচক ধারায় ফিরতে শুরু করেছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহে বাজারে ঘুরে দাঁড়ানোর এই প্রবণতার পেছনে প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে তুলনামূলক স্পষ্টতা এবং দীর্ঘ সময় দরপতনের ফলে অতিরিক্ত কমে যাওয়া (ওভারসোল্ড) শেয়ারগুলোতে কম দামে বিনিয়োগের সুযোগ বা ‘বারগেইন হান্টিং’। ইবিএল সিকিউরিটিজের সর্বশেষ সাপ্তাহিক বাজার পর্যালোচনায় এসব তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সপ্তাহের ব্যবধানে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৫২ দশমিক ২ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ৪ হাজার ৮৮৪ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে। যদিও রাজনৈতিক অস্থিরতা পুরোপুরি কাটেনি এবং বড় কোনো ইতিবাচক অনুঘটকের অনুপস্থিতিতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এখনো সতর্ক মনোভাব লক্ষ করা যাচ্ছে, তবুও আশাবাদী ও ঝুঁকি নিতে আগ্রহী বিনিয়োগকারীদের সিলেক্টিভ শেয়ার সংগ্রহ বাজারকে শেষ পর্যন্ত ইতিবাচক ধারায় রাখে।

তবে সূচকের এই উত্থানের বিপরীতে বাজারের তারল্য সংকট এখনো স্পষ্টভাবে বিদ্যমান। ডিএসইতে গড় দৈনিক লেনদেন আগের সপ্তাহের তুলনায় ৭ দশমিক ৪ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৫৯ কোটি টাকায়। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বিনিয়োগকারীদের একটি বড় অংশ এখনো ‘ওয়েট অ্যান্ড সি’ অবস্থানে থাকায় লেনদেনের গতি প্রত্যাশিত মাত্রায় বাড়েনি।

খাতভিত্তিক লেনদেন বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত সপ্তাহে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ সবচেয়ে বেশি ছিল টেক্সটাইল খাতে, যা মোট লেনদেনের ১৭ দশমিক ৯ শতাংশ দখল করে নেয়। এর পরের অবস্থানে ছিল খাদ্য খাত ১১ দশমিক ৭ শতাংশ এবং ইঞ্জিনিয়ারিং খাত ১০ দশমিক ৭ শতাংশ।

রিটার্নের দিক থেকেও অধিকাংশ খাতেই ইতিবাচক চিত্র দেখা গেছে। এর মধ্যে সেবা বা সার্ভিস সেক্টর সর্বোচ্চ ৪ দশমিক ৩ শতাংশ মুনাফা দিয়ে তালিকার শীর্ষে অবস্থান করেছে। অন্যদিকে, সিরামিক খাত ছিল ব্যতিক্রম; এ খাতে বিনিয়োগকারীরা সবচেয়ে বেশি লোকসানের সম্মুখীন হয়েছেন, যা দাঁড়িয়েছে শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ।

বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নির্বাচনের আগমুহূর্তে যদি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকে এবং বড় কোনো নেতিবাচক খবর না আসে, তবে বাজারে চলমান এই ঘুরে দাঁড়ানোর ধারা আগামী সপ্তাহগুলোতেও অব্যাহত থাকতে পারে। তবে তারল্য সংকট ও বিনিয়োগকারীদের আস্থার বিষয়টি কাটিয়ে উঠতে নীতিগত সহায়তা ও স্পষ্ট দিকনির্দেশনার ওপরই অনেকটা নির্ভর করবে বাজারের ভবিষ্যৎ গতি।

সংবাদটি শেয়ার করুন