ঢাকা | বৃহস্পতিবার
২৯শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৫ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

তীব্র শীতে কাঁপছে দেশ

পৌষ মাসের শুরুতেই শীতে কাঁপছে পুরো দেশবিশেষ করে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেঘন কুয়াশার কারণে দিনের বেলায়ও যানবাহন চলাচলে হেডলাইট ব্যবহার করতে হচ্ছেতাপমাত্রা কমে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষরা

বৃহস্পতিবার (২৬ ডিসেম্বর) রাতে মেঘনা নদীতে কুয়াশার কারণে দুটি যাত্রীবাহী লঞ্চের সংঘর্ষে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে দেশের সাতটি জেলার ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে, যার মধ্যে রয়েছে চুয়াডাঙ্গা, যশোর, গোপালগঞ্জ, রাজশাহী, পাবনা, সিরাজগঞ্জ ও নীলফামারী। শুক্রবার চুয়াডাঙ্গায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, আর আজ শনিবার সকালে যশোরে রেকর্ড করা হয়েছে ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, হালকা থেকে ঘন কুয়াশার প্রবণতা অন্তত পাঁচ দিন অব্যাহত থাকতে পারে। এর ফলে নৌ, সড়ক ও বিমান চলাচলে সাময়িক বিঘ্ন ঘটতে পারে। জানুয়ারির শুরু থেকে শীত আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ২৬ থেকে ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত মধ্যরাত থেকে সকাল সময়জুড়ে সারা দেশে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা কোনো কোনো এলাকায় দুপুর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।

ঘন কুয়াশার কারণে দৃষ্টিসীমা কমে যাওয়ায় বিমান চলাচল, অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন ও সড়ক যোগাযোগে বিঘ্ন ঘটতে পারে বলে সতর্ক করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। বিশেষ করে নদী অববাহিকা অঞ্চলে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা, অন্যান্য এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

২৬ ডিসেম্বর সকালে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা যশোরে রেকর্ড করা হয়েছে ৯.০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। একই সময়ে চুয়াডাঙ্গায় ৯.৬, গোপালগঞ্জে ৯.৮ এবং পাবনার ঈশ্বরদীতে ১০.০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। এদিন দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা রেকর্ড করা হয়েছে কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলায়।

আবহাওয়াবিদ আবুল কালাম মল্লিক জানিয়েছেন, কুয়াশার এই প্রবণতা আরও কয়েক দিন অব্যাহত থাকতে পারে এবং জানুয়ারির শুরুতে শীত আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। দেশের অভ্যন্তরের জলাধার, বিল ও হাওর, পাহাড়ি এলাকা এবং ভারতের উত্তরপশ্চিম দিক থেকে বায়ুতাড়িত কুয়াশার কারণে ঘনত্ব বেড়েছে। মধ্যরাত থেকে দুপুর পর্যন্ত কুয়াশা থাকায় সূর্যের আলো বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, ফলে শীত আরও তীব্র অনুভূত হচ্ছে।

শনিবার ভোর থেকে রাজধানীসহ বিভিন্ন সড়ক-মহাসড়ক ও ফসলের মাঠ কুয়াশায় ঢাকা পড়েছে। হেডলাইট জ্বালিয়ে ধীরগতিতে চলছে যানবাহন। প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছেন না অনেকেই। ঘন কুয়াশার কারণে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ও আরিচা-কাজিরহাট নৌরুটে ফেরি চলাচল সন্ধ্যা নামলেই বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। দেশের আটটি বিভাগের ওপর মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে চলেছে।

উত্তরের জেলাগুলোর অবস্থার অবস্থা আরও করুণ। শৈত্যপ্রবাহ ও কনকনে ঠান্ডায় বিপর্যস্ত হয়েছে জনজীবন। বিশেষ করে আশ্রয়হীন ও খেটে খাওয়া নিম্ন আয়ের মানুষ, ছোট বাচ্চা ও বয়োবৃদ্ধরা বেশি অসুবিধায় পড়েছেন। প্রয়োজনীয় শীতবস্ত্র না থাকার কারণে ঘর থেকে বের হচ্ছেন না গরিব অসহায় মানুষ। সর্ব উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ে হিমালয় থেকে আসা হিমেল হাওয়ায় কাঁপছে সাধারণ মানুষ। দিনেও স্বস্তি নেই, আর রাত নামলেই শীত আরও কঠোর হয়ে ওঠে।

সংবাদটি শেয়ার করুন