ঢাকা | শুক্রবার
৩০শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৬ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মানুষ মাত্রই ভুল করে

দীর্ঘ কয়েকদিন ধরে রাজনৈতিক মহলে চলছিল নানা জল্পনা। শেষ পর্যন্ত সেই সব জল্পনার ইতি টেনে রাজনীতিতে নতুন পথে হাঁটলেন টালিউড অভিনেত্রী পার্নো মিত্র। শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপি ত্যাগ করে পশ্চিমবঙ্গের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন তিনি।

কলকাতায় দলের কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য ও তৃণমূল নেতা জয়প্রকাশ মজুমদারের উপস্থিতিতে তৃণমূলে যোগ দেন পার্নো। দলীয় পতাকা হাতে নিয়ে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিতে দেখা যায় তাঁকে। নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের শুরু ঘিরে তৈরি হয় যথেষ্ট আলোচনা।

দলে যোগ দেওয়ার পর পার্নো মিত্র জানান, একসময় তিনি বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন ঠিকই, কিন্তু প্রত্যাশা অনুযায়ী সেখানে কাজ এগোয়নি। তাঁর কথায়, “মানুষ ভুল করতেই পারে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূল কংগ্রেসে থেকে মানুষের জন্য কাজ করতে চাই।”

তৃণমূল নেতা জয়প্রকাশ মজুমদার বলেন, ২০১৯ সাল থেকেই পার্নো সক্রিয়ভাবে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তিনি প্রার্থীও হয়েছিলেন। তবে বিজেপির দলীয় কর্মসূচিতে দীর্ঘদিন তাঁকে তেমনভাবে দেখা যায়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বরাহনগর কেন্দ্র থেকে বিজেপির প্রার্থী হিসেবে লড়েছিলেন পার্নো মিত্র। ওই নির্বাচনে তৃণমূল প্রার্থী তাপস রায়ের কাছে পরাজিত হন তিনি। সেই বছর বিজেপির টিকিটে পায়েল সরকার, শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায় ও তনুশ্রী চক্রবর্তীর মতো একাধিক তারকা প্রার্থী হয়েছিলেন।

অভিনয়জীবনের দিক থেকেও পার্নো মিত্র যথেষ্ট পরিচিত মুখ। ২০০৭ সালে ছোট পর্দার জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘খেলা’র মাধ্যমে তাঁর অভিনয় যাত্রা শুরু। পরে অঞ্জন দত্তের হাত ধরে বড় পর্দায় অভিষেক হয় ‘রঞ্জনা আমি আর আসব না’ ছবিতে। এরপর ‘বেডরুম’, ‘মাছ মিষ্টি অ্যান্ড মোর’, ‘রাজকাহিনী’, ‘আলিনগরের গোলকধাঁধা’, ‘অপুর পাঁচালি’, ‘অঙ্ক কী কঠিন’-সহ একাধিক প্রশংসিত ছবিতে অভিনয় করেছেন তিনি।

শুধু টালিউড নয়, ঢাকার সিনেমাতেও কাজ করেছেন পার্নো মিত্র। মোশাররফ করিমের বিপরীতে ‘বিলডাকিনি’ ছবিতে তাঁর অভিনয় দর্শকমহলে নজর কাড়ে। এবার অভিনয়ের পাশাপাশি তৃণমূল কংগ্রেসে থেকে রাজনৈতিক ময়দানে কতটা সক্রিয় ভূমিকা নেন, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজনৈতিক মহল।

সংবাদটি শেয়ার করুন