ঢাকা | শনিবার
৩১শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৭ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ইসরাইলের বৈশ্বিক ভাবমূর্তিতে রেকর্ড নিম্নগতি

নেশন ব্র্যান্ডস ইনডেক্স (এনবিআই)টানা দ্বিতীয় বছরে বিশ্বের দেশের ভাবমূর্তিতে ইসরাইল সবচেয়ে নিচের অবস্থানে রয়েছেব্র্যান্ডআইএল (BrandIL) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় দুই দশকের মধ্যে এটি ইসরাইলের সর্বনিম্ন র‍্যাংকএনবিআই সূচকে দেশগুলোর বৈশ্বিক ভাবমূর্তি পর্যটন, জনগণ, সংস্কৃতি, অভিবাসন, রফতানিসুশাসনের ছয়টি ক্ষেত্রে মূল্যায়ন করা হয়শীর্ষে অবস্থান করছে জাপান, জার্মানি, কানাডা, ইতালি, সুইজারল্যান্ডযুক্তরাজ্যঅন্যদিকে ইসরাইল ভারত, কেনিয়া, রাশিয়া, ইউক্রেন ও নামিবিয়ার নিচে অবস্থান করছে। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিক রাষ্ট্র না হওয়ায় আরও নিচে রয়েছে।

২০২৫ সালের আগস্টসেপ্টেম্বরের জরিপে ইসরাইলের সামগ্রিক স্কোর আগের বছরের তুলনায় ৬.১ শতাংশ কমেছে। বিশেষ করে রফতানি ও পণ্য ক্ষেত্রে ইসরাইল সবচেয়ে নিচের অবস্থানে। ক্রেতাদের মধ্যে দেশটির পণ্য ও সেবা নেয়ার অনীহা প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে। আগে সমালোচনা মূলত সরকারের নীতির ওপর সীমাবদ্ধ থাকলেও, এখন তা সাধারণ নাগরিকদের প্রতিক্রিয়াতেও ছড়িয়ে পড়েছে। গাজা ও পশ্চিম তীরে চলমান সংঘর্ষ এই নেতিবাচক মনোভাবকে তীব্র করেছে।

ইসরাইলি দৈনিক ইয়েদিওথ আহরোনোথ জানিয়েছে, বিদেশে ইসরাইলিরা ক্রমেই ‘পারসোনা নন গ্রাটা’ বা অগ্রহণযোগ্য ব্যক্তি হিসাবে বিবেচিত হচ্ছেন। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজা ও পশ্চিম তীরে ইসরাইলি অভিযানে ৭২ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। বিশ্বের তরুণদের মধ্যে ইসরাইলকে ‘অবৈধ’ ও ‘ঔপনিবেশিক রাষ্ট্র’ হিসাবে দেখার প্রবণতা বেড়েছে। এছাড়া ‘মেইড ইন ইসরাইল’ লেবেলযুক্ত পণ্যও নেতিবাচক প্রভাবের মুখে পড়ছে, যা বৈশ্বিক বয়কট আন্দোলনের কারণে।

পর্যটন, বিদেশি বিনিয়োগ ও আন্তর্জাতিক অবস্থান দুর্বল হওয়ার ঝুঁকি নিয়ে ব্র্যান্ডআইএল সতর্ক করেছে। ইউরোপে ইসরাইলের প্রতি সমর্থন ২০২৫ সালে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে; ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি, ডেনমার্ক, স্পেন ও ইতালিতে পাঁচ ভাগের এক ভাগেরও কম মানুষ ইতিবাচক মত প্রকাশ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রে পিউ রিসার্চ সেন্টারের জরিপে দেখা গেছে, ৫৩ শতাংশ মার্কিন নাগরিক নেতিবাচক ধারণা পোষণ করেন। ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে নেতিবাচক মত বেশি (৬৯%), রিপাবলিকানদের মধ্যে ৩৭%।

বিশ্বজুড়ে ২৪টি দেশে জরিপে ২০টিতে ইসরাইল সম্পর্কে নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে আরব ও মুসলিম দেশে বিরূপ মনোভাব থাকলেও, নতুন জরিপে ইউরোপ ও পূর্ব এশিয়াতেও নেতিবাচকতার বৃদ্ধি দেখা গেছে। পশ্চিম ইউরোপ ও তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ইতিবাচক ধারণা দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন