ঢাকা | শুক্রবার
৩০শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৬ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

এনসিপি ত্যাগ করলেন চট্টগ্রামের প্রধান সমন্বয়কারী

রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় নেতা মীর আরশাদুল হক। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রতি প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়ে তিনি এনসিপির সঙ্গে সব ধরনের রাজনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। একই সঙ্গে দলটির সব পদ থেকে পদত্যাগের পাশাপাশি এনসিপির মনোনয়ন প্রত্যাখ্যান করে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকেও সরে দাঁড়িয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা ৫২ মিনিটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানান মীর আরশাদুল হক। দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছর পর প্রবাস থেকে তারেক রহমানের দেশে ফেরার দিনেই এই ঘোষণা আসায় চট্টগ্রামের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী মীর আরশাদুল হক এনসিপিতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছিলেন। তিনি দলটির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব, চট্টগ্রাম মহানগরের প্রধান সমন্বয়কারী, নির্বাহী কাউন্সিলের সদস্য, মিডিয়া সেল ও শৃঙ্খলা কমিটির সদস্য এবং পরিবেশ সেলের প্রধান ছিলেন। তাঁর বাড়ি চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায়। এনসিপির মনোনয়নে চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কথা ছিল তাঁর।

ফেসবুক পোস্টে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “আমি এনসিপির সব দায়িত্ব ও পদ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছি। এই মুহূর্ত থেকে দলটির সঙ্গে আমার কোনো রাজনৈতিক সম্পর্ক নেই। চট্টগ্রাম-১৬ আসনে এনসিপির প্রার্থী হিসেবেও আমি আর নির্বাচন করছি না।”

তারেক রহমানের দেশে প্রত্যাবর্তনকে ‘বিশেষ ও ঐতিহাসিক দিন’ উল্লেখ করে মীর আরশাদুল হক বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন শেষে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দেশে ফেরাকে, তিনি আন্তরিকভাবে স্বাগত জানান। তাঁর মতে, বর্তমান সংকটময় পরিস্থিতিতে তারেক রহমানের নেতৃত্বই দেশকে স্থিতিশীলতার পথে নিতে পারে।

এনসিপি নিয়ে নিজের হতাশার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, গত ১০ মাসে তার কোনো বাস্তব প্রতিফলন দেখা যায়নি। “যে স্বপ্ন ও সম্ভাবনা দেখে এনসিপিতে যোগ দিয়েছিলাম, তা এখন সম্পূর্ণভাবে ভেঙে গেছে,”—বলেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরও দেশে ন্যায্যতা ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ প্রতিষ্ঠিত হয়নি। এত আত্মত্যাগের পরও কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়ে না ওঠার ব্যর্থতার দায় থেকে এনসিপিও মুক্ত নয়।

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মীর আরশাদুল হক বলেন, দেশে পরিকল্পিতভাবে অস্থিরতা তৈরি করা হচ্ছে, ধর্মকে ব্যবহার করে বিভাজন বাড়ানো হচ্ছে এবং মুক্তিযুদ্ধকে ঘিরে বিতর্ক উসকে দেওয়া হচ্ছে। তাঁর মতে, এই মুহূর্তে সবচেয়ে জরুরি প্রয়োজন হচ্ছে গণতান্ত্রিক উত্তরণ এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা।

তিনি বলেন, দেশের বর্তমান বাস্তবতায় তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি ও জোটের সরকার গঠন ছাড়া কার্যকর কোনো বিকল্প নেই। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পরিবেশসহ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তারেক রহমানের সুস্পষ্ট ও বাস্তবসম্মত দৃষ্টিভঙ্গি তাঁকে বিশেষভাবে আকৃষ্ট করেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তবে এ বিষয়ে মীর আরশাদুল হকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, চট্টগ্রাম মহানগর এনসিপির যুগ্ম সমন্বয়কারী আরিফ মঈনুদ্দিন বলেন, এনসিপির জামায়াতের সঙ্গে জোট গঠনের সিদ্ধান্তে আপত্তি থাকায় মীর আরশাদুল হক দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন