দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসনের অবসান ঘটিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে আবারও দৃশ্যমান হলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে তার এই স্বদেশ প্রত্যাবর্তন শুধু দেশের রাজনীতিতেই নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। দেশে ফেরার দিনেই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেছে বিশ্বের প্রভাবশালী একাধিক সংবাদমাধ্যম।
দেড় যুগের অপেক্ষা শেষে বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) দেশে পৌঁছান বিএনপির এই শীর্ষ নেতা। তার আগমনকে কেন্দ্র করে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়।
ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, বাংলাদেশের অন্যতম প্রভাবশালী রাজনৈতিক দল বিএনপির শীর্ষ নেতা তারেক রহমান বৃহস্পতিবার ঢাকায় অবতরণ করেন। সংস্থাটির প্রতিবেদনের শিরোনামে উল্লেখ করা হয়—‘খালেদা জিয়ার উত্তরসূরি ১৭ বছরের নির্বাসনের অবসান ঘটিয়ে দেশে ফিরলেন।’
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রায় ১৭ বছর নির্বাসনে থাকার পর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশে ফিরেছেন। আসন্ন ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে তিনি দলটির সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী হিসেবে সবচেয়ে এগিয়ে আছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। তার প্রত্যাবর্তনে দলের সমর্থকেরা নতুন করে উজ্জীবিত হবে বলে আশা করছে বিএনপি।
রয়টার্স আরও জানায়, ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের স্থল পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে লাখো নেতাকর্মী ও সমর্থক অবস্থান নেন। তারা দলীয় পতাকা, ব্যানার, প্ল্যাকার্ড ও ফুল হাতে স্লোগান দিতে দিতে তারেক রহমানকে স্বাগত জানান। বিমানবন্দরে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে সিনিয়র বিএনপি নেতারা তাকে অভ্যর্থনা জানান।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করে, ‘খালেদা জিয়ার পুত্র তারেক রহমান বাংলাদেশে ফিরলেন নির্বাসনের দীর্ঘ অধ্যায় শেষে।’ প্রতিবেদনে বলা হয়, তার দেশে ফেরাকে ঘিরে নজিরবিহীন জনসমাগম দেখা গেছে।
এনডিটিভি তার প্রতিবেদনে তারেক রহমানের রাজনৈতিক ও পারিবারিক পরিচয় তুলে ধরে জানায়, তিনি বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জ্যেষ্ঠ সন্তান। প্রায় ১৭ বছর স্বেচ্ছা নির্বাসনে থাকার পর তিনি লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ও মেয়ে ব্যারিস্টার জায়মা রহমানকে নিয়ে দেশে ফেরেন।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানায়, ‘১৭ বছরের নির্বাসন শেষে দেশে ফিরলেন বাংলাদেশের বিরোধীদলীয় নেতা তারেক রহমান।’ প্রতিবেদনে বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা ও তারেক রহমানের নেতৃত্বের ভূমিকা বিশ্লেষণ করা হয়। তাতে বলা হয়, তারেক রহমান বর্তমানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও দলের প্রধানমন্ত্রীর পদপ্রার্থী হিসেবে তাকে সবচেয়ে এগিয়ে থাকা নেতা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ১৯৯১ সাল থেকে বাংলাদেশের ক্ষমতার রাজনীতিতে মূলত খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনার মধ্যে পালাবদল ঘটেছে। তবে আসন্ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশগ্রহণ করতে না পারায় বিএনপির বিজয়ের সম্ভাবনা জোরালো হয়ে উঠেছে।
এদিকে বিবিসি বাংলার ওয়েবসাইটে সরাসরি সম্প্রচারিত খবরে শিরোনাম দেওয়া হয়—‘১৭ বছর পর ঢাকায় তারেক রহমান’। প্রতিবেদনে বলা হয়, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলের শীর্ষ নেতারা তাকে স্বাগত জানান।
সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর বিশ্লেষণে তারেক রহমানের এই প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি তাৎপর্যপূর্ণ ও প্রতীকী মোড় হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে, যা আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের রাজনীতিকে নতুন মাত্রা দিতে পারে।




