ঢাকা মহানগর পুলিশ ও র্যাব ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার মূল আসামিদের ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা প্রণয়নের সঙ্গে যুক্ত দুই ব্যক্তিকে শনাক্ত করেছে। এদের মধ্যে একজনকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, হত্যার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও তাঁর সহযোগী আলমগীর শেখকে সীমান্ত পার করানোর জন্য পরিকল্পনায় সরাসরি জড়িত ছিলেন ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক তাইজুল ইসলাম চৌধুরী এবং তাঁর ভগ্নিপতি আমিনুল ইসলাম।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হালুয়াঘাট সীমান্ত দিয়ে ফয়সাল ও আলমগীর ওই রাতেই ভারতের দিকে পালিয়ে যান। সীমান্ত পারাপারের জন্য আগে থেকে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল এবং এতে ব্যবহৃত হয়েছিল স্থানীয় দালাল ফিলিপ স্নাল। আমিনুল ইসলাম ফিলিপের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে সীমান্ত পার করার টাকা প্রদান করেন।
তদন্তে পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার মিরপুরের বাসিন্দা আমিনুল ঘটনার দিন ফিলিপের সঙ্গে যোগাযোগের দায়িত্বে ছিলেন। পরে গোয়েন্দা পুলিশ তাঁকে আটক করে এবং আদালত পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণে আমিনুলের মাধ্যমে ফিলিপ ও তাইজুলের যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে।
হাদি হত্যা মামলার আসামি ফয়সাল ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা এবং আলমগীর আদাবর থানা যুবলীগের কর্মী। হত্যার ঘটনার পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাঁদের অবস্থান হালুয়াঘাট সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় শনাক্ত করা হয়। ফিলিপের সহযোগীদের গ্রেপ্তারের মাধ্যমে পুলিশ সীমান্ত পার হওয়া সঠিকভাবে ট্র্যাক করতে সক্ষম হয়েছে।
ঘটনার পর সাবেক কাউন্সিলর তাইজুল মিরপুরের এলাকায় ভারত থেকে ফিলিপকে ফোন করেন। এরপর আমিনুল তাৎক্ষণিকভাবে ফিলিপের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে ফয়সাল ও আলমগীরকে সীমান্ত পার করান। এসময় ফিলিপ ৫ হাজার টাকা গ্রহন করেন।
হাদি দীর্ঘদিন গণসংযোগ চালিয়েছিলেন এবং তিনি ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী ছিলেন। ১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজের পর পুরানা পল্টনের কালভার্ট রোডে রিকশায় থাকা অবস্থায় হাদিকে গুলি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলে ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান। তাঁর জানাজা গত রোববার মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে লাখো মানুষের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হয়।
পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত সকলকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জন্য তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। এই ঘটনায় আরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।




