ঢাকা | বৃহস্পতিবার
২৯শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৫ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

তারেক রহমানকে বরণে বিমানবন্দরে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব

দীর্ঘ প্রবাসজীবন শেষে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরা ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানাতে বৃহস্পতিবার সকালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবস্থান নিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলের স্থায়ী কমিটি ও সিনিয়র নেতারা।

সকাল ১০টার দিকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যরা বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জে প্রবেশ করেন। সেখানে উপস্থিত রয়েছেন সালাহউদ্দিন আহমেদ, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, বিএনপি মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেলসহ দলের একাধিক শীর্ষ নেতা।

এর আগে তারেক রহমানকে বহনকারী বাংলাদেশ বিমান এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট সকাল ৯টা ৫৮ মিনিটে সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। প্রায় এক ঘণ্টার গ্রাউন্ড টার্নঅ্যারাউন্ড শেষে সকাল ১০টা ৫৫ মিনিটে ফ্লাইটটি ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করার কথা রয়েছে।

স্থানীয় সময় বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা ৬টা ৩৬ মিনিটে, বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার রাত ১২টা ৩৬ মিনিটে, লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে সপরিবারে ঢাকার পথে রওনা হন তারেক রহমান। তার সঙ্গে রয়েছেন স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ও কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান।

বিএনপি সূত্র জানায়, একই ফ্লাইটে আছেন তারেক রহমানের ব্যক্তিগত সচিব আব্দুর রহমান সানি, দলের প্রেস উইংয়ের সালেহ শিবলী, জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের কামাল উদ্দীন, পাশাপাশি সৈয়দ মইনউদ্দিন আহমেদ ও তাবাসসুম ফারহানা।

তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন উপলক্ষ্যে রাজধানীর পূর্বাচলের ৩৬ জুলাই এক্সপ্রেসওয়ে (৩০০ ফিট) এলাকায় গণসংবর্ধনার আয়োজন করা হয়েছে। কুড়িল মোড়সংলগ্ন সড়কের উত্তর পাশে দক্ষিণমুখী করে বাঁশ ও কাঠ দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে ৪৮ ফুট বাই ৩৬ ফুট আকারের একটি বিশাল মঞ্চ।

বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর ভিআইপি লাউঞ্জে দলের মহাসচিব ও স্থায়ী কমিটির সদস্যরা তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানাবেন। এরপর তিনি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে দেখতে বসুন্ধরার এভারকেয়ার হাসপাতালে যাবেন। সেখান থেকে জুলাই এক্সপ্রেসওয়ের সংবর্ধনাস্থলে গিয়ে নেতাকর্মীদের উদ্দেশে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে।

২০০৭ সালের জানুয়ারিতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় গ্রেপ্তার হয়ে প্রায় ১৮ মাস কারাবন্দী ছিলেন তারেক রহমান। মুক্তির পর ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর চিকিৎসার জন্য সপরিবারে লন্ডনে যান তিনি। পরবর্তী সময়ে একাধিক মামলার কারণে দেশে ফেরা সম্ভব হয়নি। দীর্ঘ সেই অধ্যায়ের ইতি টেনে অবশেষে বহু প্রতীক্ষার পর নিজ মাতৃভূমিতে পা রাখছেন বিএনপির এই শীর্ষ নেতা, যা দলের রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন