বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ১৭ বছরের বেশি সময় লন্ডনে রাজনৈতিক আশ্রয়ে থাকার পর অবশেষে বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) দেশে ফিরছেন। তার দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত বিএনপির ভেতরে ও বাইরে দীর্ঘদিন ধরে তৈরি হওয়া উদ্বেগকে শেষ করেছে। দলের পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন বলা হয়, দেশে ফেরার পথে বাধা ছিল আওয়ামী লীগ সরকারের। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, দেশে ফেরার মাধ্যমে তারেক রহমান তার দলের নেতা, কর্মী ও সমর্থকদের কাছে একটি “ধ্বংসস্তূপ থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর” মতো স্বস্তি এনে দিয়েছেন।
তারেক রহমান বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বড় সন্তান। ১৯৬৫ সালের ২০ নভেম্বর জন্ম নেওয়া তিনি ছাত্রজীবনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে ভর্তি হন। মুক্তিযুদ্ধ ও পরবর্তীতে সামরিক শাসন বিরোধী আন্দোলনে তিনি সক্রিয় ছিলেন এবং ১৯৮৮ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপির সঙ্গে যুক্ত হন। ১৯৯১ সালের সংসদ নির্বাচনের সময় দলের রাজনীতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে তার যাত্রা শুরু হয়। ২০০১ সালের নির্বাচনের সময় তার শক্ত প্রভাব দলের অভ্যন্তরে দৃঢ় হয় এবং সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব পদে অধিষ্ঠিত হন।
২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে রাজনৈতিক সহিংসতা ও দমনমূলক পরিস্থিতির কারণে তারেক রহমান আটক হন এবং কিছু মাস কারাগারে থাকার পর ২০০৮ সালে মুক্তি পেয়ে লন্ডনে চলে যান। এরপর ২০১৮ সাল পর্যন্ত পরিবার ও চিকিৎসার জন্য সময় কাটান। সেই সময় লন্ডন থেকেও তিনি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে নেতৃত্ব পরিচালনা করেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলেন, দেশে ফেরার মাধ্যমে তারেক রহমান তৃণমূলের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ ও দলের নীতিনির্ধারণী কাজে নেতৃত্ব দিতে শুরু করেছেন। তার দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, তৃণমূলের সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগ এবং জ্ঞানভিত্তিক নেতৃত্বের কারণে তিনি বিএনপির জন্য কার্যকর ও শক্তিশালী নেতৃত্ব হিসেবে পরিচিত। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, তার দেশে ফেরা দলের জন্য নতুন শক্তি ও দেশব্যাপী সংগঠনের পুনঃসঞ্চার বয়ে আনবে।




