সরকারি সেবা নিতে গিয়ে সবচেয়ে ধনী জনগোষ্ঠীই সবচেয়ে বেশি ঘুষ দিচ্ছে বলে জানানো হয়েছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সাম্প্রতিক জরিপে। জরিপে দেখা গেছে, গত ১২ মাসে যারা সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন এবং ঘুষ দিয়েছেন, তাদের মধ্যে ৩৫.১৬ শতাংশই উচ্চ আয়ের শ্রেণির। তুলনামূলকভাবে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মধ্যে এই হার ২৫.৯২ শতাংশ। অর্থাৎ দেশের মানুষের আয় বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ঘুষ প্রদানের প্রবণতাও বাড়ছে।
আজ বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ের পরিসংখ্যান ভবনে ‘সিটিজেন পারসেপশন সার্ভে (সিপিএস) ২০২৫’ শীর্ষক জরিপের চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বিবিএস। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব আলেয়া আক্তার। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন বিবিএসের মহাপরিচালক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা বিভাগের সচিব এস এম শাকিল আখতার ও পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ মাসুদ রানা চৌধুরী।
জরিপে দেখা গেছে, জেলা পর্যায়ে ঘুষ প্রদানে বড় ধরনের বৈষম্য রয়েছে। নোয়াখালী জেলার নাগরিকদের মধ্যে ৫৭.১৭ শতাংশ ঘুষ দিয়েছেন, যা সর্বোচ্চ। এর পর রয়েছে কুমিল্লা (৫৩.৪৭%), ফরিদপুর (৫১.৭০%), ভোলা (৪৯.০১%) এবং সিরাজগঞ্জ (৪৮.৩৭%)। অন্যদিকে, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ঘুষ প্রদানের হার সবচেয়ে কম, মাত্র ১০.৪৯ শতাংশ। মাগুরা, লালমনিরহাট, গাজীপুর ও সিলেটেও তুলনামূলকভাবে কম ঘুষ দেওয়ার হার দেখা গেছে।
মধ্যম আয়ের জনগোষ্ঠীর মধ্যে ঘুষ দেওয়ার হার ৩২.২৪ শতাংশ এবং উচ্চ-মধ্যম আয়ের ক্ষেত্রে ৩৩.৬০ শতাংশ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই প্রবণতা উদ্বেগজনক কারণ এটি প্রমাণ করে দুর্নীতি শুধুমাত্র দারিদ্র্যজনিত সমস্যা নয়; বরং এটি একটি প্রাতিষ্ঠানিক ও আচরণগত সংকট। জরিপে নাগরিকদের দৃষ্টিভঙ্গি ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে নিরাপত্তা, সুশাসন, সরকারি সেবার মান, দুর্নীতি, ন্যায়বিচারে প্রবেশাধিকার এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যের (এসডিজি) বিভিন্ন অগ্রগতি মূল্যায়ন করা হয়েছে।




