ঢাকা-৯ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব ডা. তাসনিম জারার নির্বাচনী তহবিল সংগ্রহে দেখা গেছে নজিরবিহীন সাড়া। মাত্র ২৯ ঘণ্টার মধ্যেই নির্ধারিত প্রায় ৪৭ লাখ টাকার লক্ষ্য পূরণ হওয়ায় আপাতত অনুদান গ্রহণ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে এ তথ্য জানান ডা. তাসনিম জারা। তিনি লেখেন, স্বল্প সময়ের মধ্যে এতো মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ পুরোনো রাজনৈতিক ধ্যানধারণাকে নাড়িয়ে দিয়েছে। এ জন্য তিনি সকল দাতাকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান।
ডা. তাসনিম জারা বলেন, সামনে শুরু হচ্ছে প্রকৃত লড়াই। যেখানে অধিকাংশ প্রার্থী কোটি কোটি টাকা ব্যয় করবেন। অনেকেই মনে করেন অর্থ ব্যয় করলেই ভোট কেনা যায়, কিন্তু তারা ভুলে যান—জনগণের সম্মিলিত শক্তিই সবচেয়ে বড় পুঁজি। নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্নে সাধারণ মানুষ নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী পাশে দাঁড়াচ্ছেন, এটিই তার প্রমাণ।
তিনি জানান, ঢাকা-৯ আসনে ভোটার সংখ্যা প্রায় পাঁচ লাখ। একজন প্রার্থী হিসেবে দিনে দীর্ঘ সময় হাঁটলেও সরাসরি খুব অল্প সংখ্যক পরিবারের কাছে পৌঁছানো সম্ভব। ফলে বিপুলসংখ্যক ভোটারের কাছে বার্তা পৌঁছাতে স্বেচ্ছাসেবকদের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হবে।
এনসিপির এই নেতা বলেন, টাকার রাজনীতিকে প্রত্যাখ্যান করার অঙ্গীকার থেকেই কোনো পেইড কর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে না। পরিচিত মানুষের মুখে বলা একটি কথা পোস্টার বা ব্যানারের চেয়েও অনেক বেশি প্রভাব ফেলতে পারে। নিয়ম মেনে তিনি নিজে পোস্টার ব্যবহার না করলেও অন্য প্রার্থীদের প্রচারণার অসমতা কাটাতে একটি ফোন কল বা ব্যক্তিগত যোগাযোগ বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
তিনি স্বেচ্ছাসেবকদের উদ্দেশে দুটি নির্দিষ্ট আহ্বান জানান। প্রথমত, সপ্তাহে ৪ থেকে ৮ ঘণ্টা সময় দিয়ে প্রশিক্ষণ নিয়ে দলগতভাবে ঘরে ঘরে গিয়ে ভোটারদের সঙ্গে কথা বলা। দ্বিতীয়ত, পোলিং এজেন্ট হিসেবে কিংবা ভোটের দিন ভোটার সহায়তায় অংশ নেওয়া। তার ভাষায়, প্রতিটি বুথে সাহসী মানুষ দরকার যারা অন্যায়ের সামনে মাথা নত করবে না।
ডা. তাসনিম জারা আরও জানান, সংগৃহীত অর্থের প্রতিটি টাকার হিসাব জনগণের সামনে স্বচ্ছভাবে তুলে ধরা হবে। কোনো নগদ অনুদান গ্রহণ করা হয়নি; সব অর্থ একটি নির্দিষ্ট বিকাশ ও ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে গ্রহণ করা হয়েছে, যা বাংলাদেশ ব্যাংকের তত্ত্বাবধানে থাকবে। এসব হিসাব নির্বাচন কমিশনেও জমা দেওয়া হবে।
শেষে তিনি বলেন, এই প্রচারণা প্রমাণ করবে—জনগণের ঐক্যবদ্ধ শক্তির কাছে কোটি কোটি কালো টাকাও কতটা অসহায় হয়ে পড়ে।




