ঢাকা | বৃহস্পতিবার
২৯শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৫ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

হাদি হত্যায় পূর্ণাঙ্গ ও স্বচ্ছ তদন্ত চায় ভারত

বাংলাদেশ–ভারত কূটনৈতিক সম্পর্কে আবারও উত্তাপ ছড়াল। ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও জুলাই যোদ্ধা শহীদ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি তলব ও বক্তব্যে পরিস্থিতি আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে।

বার্তাসংস্থা পিটিআই জানায়, বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহকে তলব করে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বৈঠকে শহীদ ওসমান হাদি হত্যার ঘটনায় পূর্ণাঙ্গ ও স্বচ্ছ তদন্ত পরিচালনার আহ্বান জানায় ভারত।

পিটিআইয়ের দাবি অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডে ভারতের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে এমন অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখতে বাংলাদেশকে অনুরোধ করেছে নয়াদিল্লি। ভারতের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এসব অভিযোগ দুই দেশের সম্পর্কের জন্য উদ্বেগজনক।

শহীদ ওসমান হাদি নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হওয়ার পর ঢাকায় অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাসের সামনে বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়। তার মৃত্যুর পর বাংলাদেশে ভারতবিরোধী মনোভাব বৃদ্ধি পাচ্ছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে পিটিআই।

এর আগে একই দিন ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মাকে তলব করে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বৈঠকে নয়াদিল্লি ও শিলিগুড়িতে বাংলাদেশের কূটনৈতিক স্থাপনায় হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ জানানো হয়। পাশাপাশি ভারতে অবস্থানরত বাংলাদেশি কূটনীতিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়।

উল্লেখ্য, গত ১৪ ডিসেম্বরও প্রণয় ভার্মাকে তলব করেছিল ঢাকা। সে সময় ভারতে অবস্থানরত ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উসকানিমূলক বক্তব্য নিয়ে বাংলাদেশের উদ্বেগ জানানো হয়। একই সঙ্গে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ও শহীদ ওসমান হাদির ওপর হামলাকারীরা যাতে ভারতে পালাতে না পারে, সে বিষয়ে ভারতের সহযোগিতা চাওয়া হয়।

এর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ১৭ ডিসেম্বর নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহকে তলব করে ভারত। এক সপ্তাহ না যেতেই তাকে আবারও তলব করায় দুই দেশের কূটনৈতিক টানাপোড়েন নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন