ঢাকা | বৃহস্পতিবার
২৯শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৫ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নির্বাচনি মাঠ প্রভাবমুক্ত রাখতে উন্নয়ন ও ত্রাণে ইসির নিষেধাজ্ঞা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে নির্বাচনি পরিবেশ স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ রাখতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ভোটের সময় কোনো ধরনের প্রভাব বা সুবিধা বিতরণ ঠেকাতে নির্বাচন শেষ না হওয়া পর্যন্ত নতুন করে অনুদান, ত্রাণ কার্যক্রম ও উন্নয়ন প্রকল্পে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

ইসি জানিয়েছে, নির্বাচনকালীন সময়ে নতুন কোনো অনুদান বা ত্রাণ কার্যক্রম শুরু করা যাবে না। তবে যেসব ত্রাণ ও অনুদান কর্মসূচি ইতোমধ্যে চালু রয়েছে, সেগুলো পূর্বনির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী চলমান থাকবে। এ বিষয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিবকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠির মাধ্যমে অবহিত করা হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেনের স্বাক্ষরিত চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনকে প্রভাবমুক্ত রাখতে এবং আচরণবিধি কঠোরভাবে প্রতিপালনের লক্ষ্যে ভোটগ্রহণ শেষ না হওয়া পর্যন্ত নতুন কোনো অনুদান বা ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম গ্রহণ করা যাবে না।

চিঠিতে আরও বলা হয়, নির্বাচন চলাকালে কোনো এলাকায় জরুরি পরিস্থিতিতে নতুন ত্রাণ কার্যক্রম নেওয়ার প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে তা পরিচালনা করতে হবে এবং বিষয়টি অবশ্যই নির্বাচন কমিশনকে অবহিত করতে হবে।

একই সঙ্গে ভোটের আগে উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন, ঘোষণা, ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও উদ্বোধনের ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ইসি। নির্বাচনি তফসিল ঘোষণার দিন থেকে শুরু করে নির্বাচনের ফলাফল সরকারি গেজেটে প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে।

সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণবিধিমালা, ২০২৫ অনুযায়ী নির্বাচন-পূর্ব সময়ে কোনো সরকারি, আধা-সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের তহবিল থেকে কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে অনুদান ঘোষণা, বরাদ্দ বা অর্থ অবমুক্ত করা যাবে না বলে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে।

এছাড়া নির্বাচনি এলাকায় কোনো প্রার্থী সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভাসহ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের সম্পত্তি, অফিস, যানবাহন, মোবাইল ফোন, টেলিফোন, ওয়াকিটকি কিংবা অন্য কোনো সুযোগ-সুবিধা নির্বাচনি কাজে ব্যবহার করতে পারবেন না। এমনকি মাশুল প্রদান করেও এসব সুবিধা গ্রহণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীকেও নির্বাচনি কাজে ব্যবহার করা যাবে না।

ইসি আরও জানায়, আচরণবিধিমালা অনুযায়ী নির্বাচন-পূর্ব সময়ে কোনো প্রার্থী কর্তৃক সরকারি বা আধা-সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের অনুমোদন, ঘোষণা, ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন বা ফলক উন্মোচন সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ। তবে পূর্বে অনুমোদিত কোনো প্রকল্পে অর্থ ছাড় নিতান্ত জরুরি হলে নির্বাচন কমিশনের পূর্বানুমতি নিতে হবে।

সবশেষে নির্বাচন কমিশন সতর্ক করে জানায়, আচরণবিধিমালার এসব নির্দেশনা লঙ্ঘন করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আচরণবিধিমালা, ২০২৫-এর বিধি ২৭ অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন