দীর্ঘ সময়ের নির্বাসিত জীবনের অবসান ঘটিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরার দিনক্ষণ চূড়ান্ত হয়েছে। আগামী ২৫ ডিসেম্বর তিনি বাংলাদেশের মাটিতে পা রাখবেন। এই খবরে সারাদেশের মতো তার পিতৃভূমি বগুড়ায় তৈরি হয়েছে বিশেষ উন্মাদনা ও প্রত্যাশার আবহ।
দেশের অন্যান্য জেলার তুলনায় বগুড়ার আবেগ যেন আরও গভীর। কারণ, এ জেলাই বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জন্মভূমি। বাবার উত্তরসূরি তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনের খবরে বগুড়ার মানুষের চোখে আনন্দের পাশাপাশি জ্বলছে আশার আলো। দীর্ঘদিনের বঞ্চনা, থমকে থাকা উন্নয়ন আর উপেক্ষার অধ্যায় কাটিয়ে নতুন দিনের অপেক্ষায় বগুড়াবাসী।
তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষায় তার পূর্বপুরুষদের ভিটা গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ি গ্রামসহ পুরো জেলা। এই গ্রাম থেকেই ৪৩ বছর আগে এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সূচনা করেছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, দেশে ফেরার পর তারেক রহমান পৈতৃক ভিটায় এসে আত্মীয়স্বজন ও শুভানুধ্যায়ীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। সে উপলক্ষে নবীন-প্রবীণ সবাই ব্যস্ত প্রস্তুতিতে।
বাগবাড়ি গ্রামের প্রবীণ বাসিন্দা আছির উদ্দিন বলেন, তারেক রহমানের দেশে ফেরা আমাদের জন্য আনন্দের খবর। তিনি এলে এলাকার মানুষের উপকার হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। একই গ্রামের তরুণ বাসিন্দা ফয়সাল রহমান জানান, তারেক রহমানের দাদা ও বাবার জন্ম এই গ্রামে। তিনি দেশে এলে বাগবাড়িতে আসবেন এটাই আমাদের আশা। তাকে পেলে আমাদের সবার ভালো লাগবে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, বগুড়ায় বিএনপির প্রতি বরাবরই ব্যাপক সমর্থন থাকলেও বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে নানা চাপ ও প্রতিবন্ধকতা ছিল। শেখ হাসিনার পতনের পর এখন তারা আবার প্রকাশ্যে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, বেগম খালেদা জিয়া ও তাদের পরিবারের কথা বলতে পারছেন।
গাবতলী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক নতুন বলেন, বগুড়ার সব শ্রেণি-পেশার মানুষ ঢাকায় যাবেন ঘরের ছেলেকে বরণ করে নিতে। ইতোমধ্যে হাজারো গাড়ি বুকিং দেওয়া হয়েছে। ঢাকার আনুষ্ঠানিকতা শেষে জানুয়ারির শুরুতেই তারেক রহমান বগুড়ায় আসবেন বলে আমরা আশাবাদী।
জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আলহাজ মোশারফ হোসেন জানান, কোটি মানুষের ভালোবাসা নিয়ে তারেক রহমান দেশে ফিরছেন। তাকে একনজর দেখতে বগুড়ার নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশাহ বলেন, তিনি অবশ্যই তার পিতৃভূমি বাগবাড়িতে যাবেন এবং স্মৃতিবিজড়িত মুহূর্তগুলো সবার সঙ্গে ভাগ করে নেবেন।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-৬ সদর আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে প্রথমবারের মতো প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তারেক রহমান। দলীয় সূত্র জানায়, তিনি প্রথমে সিলেটে অবতরণ করে পরে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামবেন। সেখান থেকে বসুন্ধরার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তার মা বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।
এরপর ঢাকার পূর্বাচলে আয়োজিত সংবর্ধনা সভায় যোগ দেবেন তারেক রহমান। ওই কর্মসূচি সফল করতে বগুড়া থেকে বিএনপির ২৪টি ইউনিটের নেতাকর্মীরা প্রায় এক হাজার গাড়ির বহর নিয়ে ঢাকায় যাবেন। ১৯ ডিসেম্বর শহরের নবাববাড়ী দলীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সঙ্গে সিদ্ধান্ত হয়, বগুড়ায় তার আগমন উপলক্ষে আলাদা সংবর্ধনা ও বগুড়া-৬ ও বগুড়া-৭ আসনে জনসভার আয়োজন করা হবে—যা ঘিরে ইতোমধ্যে জেলায় রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়তে শুরু করেছে।




