ঢাকা | বৃহস্পতিবার
২৯শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৫ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

হুমকি আর হামলার মাঝেই নির্বাচন: মিয়ানমারে সংকট গভীর

মিয়ানমারে সামরিক তত্ত্বাবধানে আয়োজিত আসন্ন নির্বাচনের প্রাক্কালে ভয়, হুমকি ও সহিংসতার অভিযোগ সামনে এনেছে জাতিসংঘ। সংস্থাটির ভাষ্য, ভোটে অংশ নিতে মানুষকে জোর করা হচ্ছে, আবার ভোট ঠেকাতে বিরোধী সশস্ত্র গোষ্ঠীর সহিংসতাও পরিস্থিতিকে আরও বিপজ্জনক করে তুলছে।

জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ভলকার টুর্ক এক বিবৃতিতে বলেন, ভিন্নমত দমন, জোরপূর্বক ভোটে অংশগ্রহণ করানো এবং মতপ্রকাশের কারণে গ্রেপ্তার অবিলম্বে বন্ধ করা জরুরি। তাঁর মতে, এমন পরিবেশে প্রকৃত গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণ সম্ভব নয়।

আগামী রোববার (২৮ ডিসেম্বর) থেকে দেশজুড়ে ভোটগ্রহণ শুরু করার পরিকল্পনা করেছে সামরিক সরকার। কর্তৃপক্ষ একে গণতন্ত্রে ফেরার ধাপ হিসেবে তুলে ধরলেও আন্তর্জাতিক মহলের বড় অংশ এই নির্বাচনকে সামরিক শাসনকে বৈধতা দেওয়ার নতুন কৌশল হিসেবে দেখছে।

২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে সেনা অভ্যুত্থানের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর থেকেই মিয়ানমার দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে। সাবেক রাষ্ট্রনেত্রী অং সান সু চি এখনও কারাবন্দি, আর তার রাজনৈতিক দল কার্যত বিলুপ্ত।

জাতিসংঘ জানায়, তথাকথিত ‘নির্বাচন সুরক্ষা আইন’ ব্যবহার করে মতপ্রকাশের দায়ে বহু নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ইয়াঙ্গুন অঞ্চলে নির্বাচনবিরোধী পোস্টার টাঙানোর অভিযোগে তিন তরুণকে ৪২ থেকে ৪৯ বছরের কারাদণ্ড দেওয়ার ঘটনাও নথিভুক্ত হয়েছে।

সংস্থাটি আরও বলছে, বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীকে ভোট দিতে বাধ্য করতে হুমকি দেওয়া হচ্ছে ভোটে না গেলে হামলা বা বসতভিটা দখলের ভয় দেখানো হচ্ছে। জাতিসংঘের মতে, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় জোর করে মানুষকে ফেরাতে বাধ্য করা গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন।

এদিকে সামরিক সরকারের বিরোধী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোও ভোট বর্জনের আহ্বান জানিয়ে হুমকি দিচ্ছে। কিছু অঞ্চলে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট দপ্তরে বোমা হামলার ঘটনায় নির্বাচনকর্মীরা আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

ভলকার টুর্ক সতর্ক করে বলেন, সহিংসতা ও দমননীতির আবহে আয়োজিত এই ভোটে মতপ্রকাশ, সংগঠন ও শান্তিপূর্ণ সমাবেশের স্বাধীনতা অনুপস্থিত। ফলে জনগণের মুক্ত, নিরাপদ ও অর্থবহ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না এমন আশঙ্কাই এখন সবচেয়ে বড় বাস্তবতা।

সংবাদটি শেয়ার করুন